Thursday, 2 December 2021

chemotherapy treatment or medical business by draabdussalaam

কোনো ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকেই কেমোথেরাপি দিয়ে পুরোপুরি রোগমুক্ত করা সম্ভব নয় (কেমো দিয়ে যাঁদেরকে ভালো করা বা সুস্থ করে তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, তাঁদের আসলে ক্যান্সার-ই হয়নি; স্রেফ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে চিকিৎসা-ব্যবসায়ীদের বানানো কিছু মানদন্ডে ফেলে কথিত ক্যান্সার রোগী বানানো হয়), তবু এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা জমজমাট!

অথচ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে মাত্র ছয় থেকে নয় মাস আগুনের স্পর্শবিহীন খাবার খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে পারলেই দেহের ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় (প্রকৃতির মুক্ত পশু-পাখি কখনোই আগুনের ছোঁয়াযুক্ত খাবার খায় না; সেজন্য ক্যান্সার নামক ব্যাধি তাদের ছুঁতে পারেনি)! সৃষ্টির সূচনালগ্নে হযরত আদম (আ.) আগুনের স্পর্শবিহীন জীবন্ত (প্রাকৃতিক) খাবার খেয়ে ১০০০ বছর বেঁচেছিলেন; কোনো রোগ-বালাই কিন্তু তাঁকে ছুঁতে পারেনি। দুঃখজনক ঘটনা হলো- চিকিৎসা-ব্যবসায়ীদের অর্থ, ক্ষমতা, দাপট ও প্রচার-প্রচারণার বিপরীতে এই সহজ সমাধান নিয়ে ন্যূনতম আলোচনা নেই!

কেমোথেরাপি দিয়ে কাউকে সুস্থ করে তোলা যায় না, বরং অসুস্থতা তথা মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়! কেননা কান্সার আক্রান্ত কোষগুলো ধ্বংস করার নামে পুরো শরীরে বিষ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে করে ক্যান্সার আক্রান্ত কিছু কোষ মরলেও অনেক ভালো কোষের অকাল মৃত্যু হয়। ফলে পুরো দেহের রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা কমে যায়। ওদিকে যে সকল ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ প্রথম দফা কেমোর ছোবল থেকে রেহাই পেয়ে যায়, তাদেরকে ধ্বংস করার জন্য কিছুদিন পরে রোগীকে আবার কেমো দেওয়া হয়। এভাবে চলতেই থাকে, যতদিন পর্যন্ত রোগীর মৃত্যু না হয়- যেটা অপচিকিৎসা ছাড়া আর কিছুই নয়।

Monday, 29 November 2021

Manobdeho ek odvut sristi by draabdussalaam

কি আশ্চর্য্য সৃষ্টি আমাদের মানবদেহ লেখক draabdussalaam

বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডের সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু হলো মানবদেহ। এই দেহের মধ্যে সমাবিষ্ট আছে স্বয়ংক্রিয়, সূক্ষ্ণ, অথচ মহাশক্তিশালী কয়েকটি যন্ত্র- হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস- বিরামহীন পাম্প, চোখ এক বিস্ময়কর ক্যামেরা তথা প্রজেক্টর ব্যবস্থা, কান এক আশ্চর্যময় শব্দযন্ত্র, পেট এক চমৎকার রাসয়নিক গবেষণাগার, স্নায়ু বহু মাইল বিস্তৃত যোগাযোগ ব্যবস্থা, মস্তিষ্ক. অসীম ক্ষমতাধর এক অদ্বিতীয় কম্পিউটার, হাতের ফিঙ্গার প্রিন্ট ইউনিক সনাক্তকরণ চিনহ, জিভ এক নির্ভেজাল টেষ্টর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই সবকয়টি যন্ত্র অবিশ্বাস্যভাবে একযোগে কাজ করে চলে যাতে এই দেহ অনায়াসে ১০০ বছরেরও বেশি সচল থাকতে পারে।

আমাদের দেহের গঠনতন্ত্র খুব জটিল হলেও তাকে রক্ষা করা খুবই সহজ। প্রকৃতি আমাদের দেহে এমন অন্তনির্মিত ব্যবস্থা দিয়েছে যার দ্বারা এই যন্ত্রগুলোর দেখাশোনা করা যায় ও প্রয়োজন হলে মেরামতও করা যায়। এই অন্তনির্মিত ব্যবস্থার উপযোগ করে যে চিকিৎসাপদ্ধতি, তার নাম আকুপ্রেসার- যা কি না স্রষ্টার পক্ষ থেকে মানবজাতিকে দেওয়া সর্বাধিক অমূল্য উপহার। আর সুষম খাদ্যাভ্যাস।

আমাদের শরীরের ভেতরে যে বিদ্যুপ্রবাহ বয়ে চলেছে, তার সুইচবোর্ড হলো দুই হাতের তালু আর দুই পদতল। এর কোনো পয়েন্টে ব্যথা অনুভব করলেই বুঝে নিতে হবে যে, সেই জায়গার বিদ্যুতের ফিউজ কেটে গেছে। মোদ্দাকথা বিনাখরচায় নিজেই নিজের চিকিৎসক হয়ে বুঝতে পারবেন গোলমালটা কোথায়? মানে হাত ও পায়ের তালুর কোথাও ব্যথা অনুভব করলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে ওই পয়েন্টের সঙ্গে যুক্ত শরীরে অঙ্গে সমস্যা আছে। এমতাবস্থায় আকুপ্রেসারই একমাত্র চিকিৎসা পদ্ধতি যা রোগ প্রতিরোধ করে ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই আমরা আমাদের মানবদেহের ইঞ্জিনিয়ার মহান আল্লাহর প্রশংসা করি আলহামদুলিল্লাহ বলে।

Doctor Drugs and Diagnosis Centre by draabdussalaam

তিন D (Doctor, Diagnosis Center ও Drugs) থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন - Dr Aabdus Salaam #draabdussalaam # hellodoctorplc 

মানবদেহ স্রষ্টার এমন এক অনন্য সৃষ্টি, এমন এক নিখুঁত যন্ত্র- যা নিজেই নিজের সুস্থতা অটুট রাখতে পারে! রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাদের শরীরের ভেতরেই বিদ্যমান, এজন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উপাদানগুলো শরীর প্রকৃতি থেকে আহরণ করে। দরকার শুধু সঠিক খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াকে সচল রাখা আর এমন কিছু না করা যাতে মানবদেহের প্রাকৃতিক নিয়ম লঙ্ঘিত হয়। কিন্তু ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি ও আদর্শ খাদ্যজ্ঞানের অভাবে অধিকাংশ মানুষ এখানেই ঝামেলা বাঁধিয়ে ফেলে। পরিণামে আমাদেরকে অকালে নানা রোগে ভূগতে হয় এবং চিকিৎসার পেছনে জীবনের শেষ সঞ্চয় পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েও অনেক সময় শেষ রক্ষা হয় না (অথচ সময় থাকতে এসব বিষয়ে কেউ সদুপদেশ দিতে এলে উল্টো তাঁর যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলি)!

যিনি একটি মানবদেহের মালিক, তিনিই এই দেহ ও দেহের সুরক্ষা বিষয়ে কথা বলার অধিকার রাখেন। তবে সবার আগে মানবদেহ ও এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানার জন্য যথেষ্ট পড়াশুনা করে নেওয়া উচিত। সেটা যে কেবলমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই হতে হবে- প্রকৃতিতে এমন কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। কিন্তু আমাদের সমাজে এই ধারণা ইতোমধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত যে, চিকিৎসাবিজ্ঞান শুধুমাত্র চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ালেখা করেছেন- এমন মানুষদের অধিকারভূক্ত; বাকি সবাই তাঁদের রোগী! ডাক্তারগণ এই দেহটিকে সুস্থ করার নামে ইচ্ছেমতোন ওষুধ (আসলে ড্রাগ) দেহের ভেতরে ঢোকাবেন, কিন্তু তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না, কৈফিয়ৎ তলব তো আরো পরের ব্যাপার!

শুরুতেই যে বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার, তাহলো আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য নয়। আমরা শুধু চাই প্রকৃতির সেরা সৃষ্টি মানুষকে প্রকৃতির কোলে ফিরিয়ে আনতে, অন্তত প্রকৃতির কাছাকাছি রাখতে। কেননা এছাড়া অন্যকিছুতে মানুষের চূড়ান্ত মুক্তি নেই।

মানবদেহ আসলে রূপান্তরিত খাদ্যের সমন্বয়। আমরা খাদ্য, পানীয় আর নিঃশ্বাসের মাধ্যমে যে অক্সিজেন গ্রহণ করি, তার সমন্বয়েই বেঁচে থাকি। আমরা যা কিছু খাই, দেহটা ঠিক তাই! এক্ষেত্রে প্রাকৃতিক নিয়ম ন্যূনতম লঙ্ঘিত হলেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে যেতে বাধ্য। এটা বোঝার জন্য জনে জনে ডাক্তার হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে প্রকৃতির ইশারা বুঝে খাবার খেলে যে কেউ মৃত্যুর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত কোনো ধরনের ডিজেনারেটিভ রোগবালাই তাকে স্পর্শ করতে পারবে না, দেহ থাকবে অটুট ও সুরক্ষিত! অন্তত আজকের জামানায় অপরিহার্য তিন-ডি যথাক্রমে ডাক্তার, ডায়গনসিস সেন্টার ও ড্রাগ থেকে যে দূরে থাকতে পারবেন, সে কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যাধারী ডাক্তারগণ এনাটমি ও ফিজিওলজি বিশ্লেষণ করে রোগ নির্ণয় করেন। তারপর চিকিৎসা হিসেবে বিভিন্ন ওষুধ (আসলে ড্রাগ; যা কেমিক্যাল থেকে উৎপাদিত) প্রয়োগ করেন। কিন্তু মানবদেহের প্রাকৃতিক রীতি-নীতি আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে আলোচিত (পড়ানো) হয় না। আরো আশংকার কথা হলো- আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মুল লক্ষ্য মানবসেবা নয়, ব্যবসা! ফলে গবেষণাগারে একটার পর একটা নতুন রোগের আবিষ্কার হচ্ছে (সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে করোনাতঙ্ক) আর তার প্রতিকারের নামে চলছে ওষুধ বিক্রির করে মুনাফা অর্জনের রমরমা বাণিজ্য।

কেউ নিজের থেকে ডাক্তারি পড়া ছেড়ে না দিলে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ কাউকে ডাক্তার বানানো/হওয়া থেকে বঞ্চিত করে না। একবারে না পারলে বারবার পড়িয়ে মুখস্থ করিয়ে ঠিকই এমবিবিএস পাস করিয়ে ছাড়ে! তারপর ইন্টার্নশিপ করার সময় কোন লক্ষণ দেখা গেলে কোন ওষুধ কী মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে আর পরিস্থিতি খুব বেশি জটিল হলে রোগীকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে কিভাবে প্রাকৃতিক নিয়মে দেহে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করাতে হবে- সেই বিদ্যার অনুশীলন করিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানের আনুষ্ঠানিক অধিকারপত্র (লাইসেন্স) দিয়ে দেওয়া হচ্ছে!

MBBS সনদপত্র আর ডাক্তারি করতে পারার লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পর নবীন ডাক্তারগণ ওষুধ কোম্পানির ছড়ানো-ছিটানো সূক্ষ্ণ জালে এমনভাবে আটকা পড়ে যান যে, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের শেখানো বুলির বাইরে নতুন করে চিকিৎসা বিষয়ক জ্ঞানচর্চার সুযোগই পান না! অধিকাংশ চিকিৎসক রোগী দেখতে এতো স্যবস্ত সময় পার করেন যে, আলাদাভাবে পড়াশুনা করার মতো যথেষ্ট সময় তাঁদের হাতে থাকে না। এটা কিন্তু BBA পড়া নয় যে, একবার পড়িয়ে, মুখস্থ করিয়ে পরীক্ষা নিয়েই দায়-দায়িত্ব শেষ!

যতই দিন যাচ্ছে, নিত্য-নতুন জীবাণু ও রোগের সন্ধান মিলছে; তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ওষুধের সংখ্যাও। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক চিকিৎসকের পক্ষে প্রতি পাঁচাটি ওষুধের মধ্যে অন্তত একটি ওষুধের লাইসেন্সিং স্ট্যাটাস নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ডাক্তারদের জন্য ড্রাগ রিপ্রেজেন্টেটিভদের মতামতই শিরোধার্য (যদিও আমরা আম-জনতা স্রষ্টার পরে ডাক্তারগণকেই ‘জীবনদাতা’ জ্ঞান করেন)! আসলে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে নেপথ্যে থেকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে হাসপাতাল-ক্লিনিক আর ওষুধ কোম্পানিগুলো!

পৃথিবীর কোনো দেশে ডাক্তারগণ ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের ব্র্যান্ড-নাম লেখার অধিকার রাখেন না। তাঁদেরকে লিখতে হয় ওষুধের জেনেরিক-নাম। রোগী ওই ব্যবস্থাপত্র নিয়ে কোনো অনুমোদিত ড্রাগ-স্টোরে গেলে প্রাতিষ্ঠানিক সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট প্রয়োজনীয় ওষুধ নির্ধারণ করেন। কিন্তু আমাদের দেশে ডাক্তারগণই ওষুধের ব্র্যান্ড-নাম লিখে দেন। বলাবাহুল্য যে, এর নেপথ্যে ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি বিশাল অংকের টাকার লেনদেন-এর খেলা চলে (যে কারণে ওষুধের ব্র্যান্ড পরিবর্তন করলেও অনেক ডাক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করেন)!

এরশাদ যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন, গণস্বাস্থ্যের ডা. জাফরুল্লাহ তখন জাতীয় ওষুধ-নীতি তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন- চিকিৎসকেরা যেন প্রেসক্রিপশনে ওষুধের জেনেরিক-নাম লেখেন। কিন্তু তাতে করে ডাক্তারদের ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন নেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। সে কারণে চিকিৎসক সমাজ ও ওষুধ কোম্পানিগুলো সন্মিলিতভাবে প্রণীত ওষুধ-নীতির বিরোধিতা করে এবং ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ডা. জাফরুল্লাহ’র চিকিৎসক সমিতির সদস্যপদ বাতিল করা হয় (যদিও তিনি সঠিক কাজটাই করেছিলেন)।

বাংলাদেশের ওষুধ বিপণন প্রক্রিয়ার পুরোটাই অনিয়ম ও অনৈতিকতায় ভরপুর! অতীব দুঃখজনক ও লজ্জাজনক হলেও সত্যি যে, ওষুধ প্রেস্ক্রাইব করানোর জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলো প্রতিনিয়ত ডাক্তারদের মোটা অঙ্কের কমিশন ও উপহারসামগ্রী দেয়। এর বিনিময়ে ডাক্তারগণ রোগীদেরকে সুনির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির ওষুধের নামই লিখে দেন! হাসপাতাল আর ক্লিনিকগুলোতে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড়ে হাঁটা-চলাই দায়! হাসপাতাল চত্বরের পার্কিং জোন ওষুধ কোম্পানির মটর সাইকেল-এ ঠাসা। তাদের চাপে রোগীদের গাড়ি রাখার জায়গা থাকে না!

বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ওষুধ বিপণন চলছে- এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ডাক্তারদের ঘুষ দেওয়া ছাড়া এই দেশে ওষুধের বিপণন হয় না! এটা সম্পূর্ণ অবৈধ তৎপরতা, যা অবিলম্বে (আইন জারি করে) বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

একজন বিক্রয়বিদ হিসেবে বলতে পারি- মোটা অঙ্কের কমিশন আর উপহারসামগ্রী দিয়ে বিক্রি করা তথা বাড়ানো নিকৃষ্টতম বিক্রয় কৌশল! বিক্রয় বাড়ানোর অসংখ্য নিয়মতান্ত্রিক কৌশল রয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে সেসবের কোনো প্রয়োগ নেই। কোনোপ্রকার অবৈধ লেনদেন ছাড়াও যে বিক্রির প্রসার ঘটানো সম্ভব- সেদিকে কারো নজর নেই (আন্তরিক ইচ্ছার ঘাটতিও দৃশ্যমান)।

কমিশন দিয়ে প্রেস্ক্রিপশন লেখানোর ধান্দাবাজি বন্ধ করা গেলে অধিকাংশ ওষুধ কোম্পানির বিক্রি অর্ধেক-এ নেমে আসবে। কিন্তু যেভাবে চলছে সেভাবে চলতে দিলে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী ও বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মহার বেড়ে যাাবে! পরিণামে মানবসভ্যতা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হবে।

ওষুধ প্রশাসনের সাবেক এক পরিচালকের তথ্য মোতাবেক, ”দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদের মোট বিক্রির ১০% অর্থ চিকিৎসকদের ঘুষ বা কমিশন দেওয়া বাবদ ব্যয় করে।” প্রশ্ন হলো- যে ব্যবসায় বিপণনের (Sales)-এর মুল অস্ত্র ডাক্তারদের ঘুষ দিয়ে প্রেস্ক্রিপশন লেখানো, সেখানে ওষুধ কোম্পানিগুলোতে সুবিশাল Sales Force-এর রাখার যৌক্তিকতা কোথায়?!? আদৌ কি এর কোনো প্রয়োজন আছে? এর পরিবর্তে কিছু বিশ্বস্ত ঘুষদাতা নিয়োগ করলেই তো ঝামেলা চুকে যায়!

আমাদের দেশে চিকিৎসাবিদ্যা শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্ষতিসাধিত হয়েছে বেসরকারি পর্যায়ে গণহারে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দিয়ে। নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি পর্যায়ে মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকতে হবে এবং কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ শয্যা সব সময় রোগী দ্বারা পরিপূর্ণ থাকতে হবে। তাহলে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। কিন্তু দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা প্রথম আলো’র (২৫ মার্চ ২০১৯) অনুসন্ধানে এমনও দেখা গেছে, কিছু বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের নামকাওয়াস্তে হাসপাতাল থাকলেও সেখানে রোগীরা যায় না! ফলে ব্যবহারিক কার্যক্রম নির্ভর চিকিৎসা-বিদ্যাও ক্ষেত্রবিশেষে হয়ে উঠেছে স্রেফ মুখস্থ-নির্ভর বিদ্যা এবং এভাবে ফাঁকিজুকি দিয়ে পাস করে অনেকেই ডাক্তার হিসেবে সনদপত্র পেয়ে ছড়িয়ে পড়ছেন দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। যদিও তাদের একটা অংশ আসলে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবহারিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন (‘ভূয়া ডাক্তার’ বললে অনেকে মাইন্ড করতে পারেন)! ফলে তাদের হাতে রোগীদের জীবন কোনো অবস্থাতেই নিরাপদ নয়।

ডাক্তারীবিদ্যার বেহাল দশার পাশাপাশি বলতে হয় ডায়গনসিস সেন্টারগুলোর বাটপারির কথাও। অনেক তথাকথিত মানসম্পন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে র‌্যাব-এর অভিযানে যে ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে এসেছে, তাতে করে কোনো রিপোর্টের ওপরেই পরিপূর্ণ ভরসা করা যায় না। অনেক মানহীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নুমনা পরীক্ষা না করেই ডাক্তারের পূর্ব স্বাক্ষরিত রিপোর্ট দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদিও এসবের ভিত্তিতেই ডাক্তারগণ রোগীর অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন! যেখানে মেডিক্যাল রিপোর্টই ঠিক নেই, সেখানে সঠিক চিকিৎসা হবে কিভাবে?!?

প্রসঙ্গক্রমে চলে আসে ওষুধের কথাও। শুনে হয়ত অবাক হবেন- চিকিৎসাশাস্ত্রের সংজ্ঞা মতে, কোনো ওষুধই নিরাপদ নয়! ওষুধ শরীরের জন্য বহিরাগত একটি রাসায়নিক পদার্থ এবং প্রত্যেকটি রাসায়নিক পদার্থেরই শরীরে কম-বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিষক্রিয়া ও মিথস্ক্রিয়া আছে। এগুলোকে ধর্তব্যের মধ্যে না নিলেও অনিরাপদ, অপ্রয়োজনীয়, ক্ষতিকর ও ব্যবহার অনুপযোগী ওষুধ খাইয়ে বিশ্বের শত কোটি মানুষকে ঠকিয়ে ওষুধ কোম্পানিগুলো কিভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার মুনাফা করছে আর এসব ওষুধ কিনে খেয়ে সাধারণ মানুষ যেভাবে শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ তথা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন- সেই বিবরণ জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক (পরবর্তীতে ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) ড. Muniruddin Ahmed-এর লেখা ‘সব ওষুধ নিরাপদ নয়’ (আগামী প্রকাশনী প্রকাশিত) বইটি পড়তে হবে।

রোগ হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া যেমন সুখকর পরিস্থিতি নয়, তেমনি ওষুধ কোনো নিরাপদ বস্তু নয়। তবু আমরা ওষুধ খাই কারণ অনেক সময় ওষুধ না খেলে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। সে কারণে গ্রহণযোগ্য মাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিকর দিকগুলো বিবেচনায় রেখেই ওষুধ দিতে/খেতে হয়। কিন্তু সব রোগে ওষুধের দরকার হয় না, এমনকি ওষুধে সব রোগের সমাধানও নেই। কিন্তু সে কথা কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে একের পর এক ওষুধ গেলানোটাই এখন ওষুধ কোম্পানিগুলোর মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে আর সে কাজে সজ্ঞানে ও খানিকটা অজ্ঞানে সহযোগিতা করে চলেছেন দেশের সেরা মেধাবী সন্তানেরা- যাঁরা কিনা ডাক্তারি পাস করে ‘মানবসেবার’ লাইসেন্স নিয়েছেন!

এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ১৫% ওষুধই নিরাপদ নয়, যার আর্থিক মূল্য ২৫০ বিলিয়ন ডলার। আর এশিয়া-আফ্রিকার কোনো কোনো অঞ্চলে ৫০% ওষুধই মানসম্মত নয়। ওষুধ কোম্পানিগুলো রোগ নিরাময়ের জন্য কাজ করে না, তাদের লক্ষ্য ওষুধের খরিদ্দার বাড়ানো। সেজন্য যদি সুস্থ মানুষকে অসুস্থ প্রমাণ করা লাগে, সে কাজেও তারা পিছ পা হয় না!

ওষুধের যুক্তিসঙ্গত প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো যথাসম্ভব ন্যূনতম পর্যায়ে রেখে রোগীকে সর্বোচ্চ মাত্রায় সুফল প্রদানের প্রচেষ্টা চিকিৎসাবিজ্ঞানের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। কিন্তু সেখানেও ‘ব্যবসা’ ঢুকে গেছে; শুধু ঢোকেইনি, ভালোভাবে জাঁকিয়ে বসেছে! ওষুধের তাৎক্ষণিকভাবে রোগের টুটি চেপে ধরার অপূর্ব ক্ষমতাকেই আমরা শুধু আমলে নিয়ে থাকি, কিন্তু এর পাশাপাশি আমাদের শরীরে যে কত রকমের বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়- সেটা কেউ জানি না বা তার খবর রাখি না!

ওষুধ ভোগ্যপণ্যের মতো কোনো বিলাসী বস্তু নয়। ওষুধ সেবনে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা চিকিৎসাশাস্ত্রের অত্যাবশ্যকীয় পূর্বশর্ত। কিন্তু আজকের বাণিজিক দুনিয়ায় সে কথা কেউ মনেই রাখেনি, মানা তো আরো দূরের ব্যাপার। বিশেষ করে নির্বিচারে এন্টিবায়োটিক সেবন আমাদেরকে ভয়ংকর বিপদ ও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। 

এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের পর একদিকে লাখো কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করা গেছে, অন্যদিকে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় কত মানুষকে অকালে জীবন দিতে হয়েছে, তার ইয়াত্তা নেই। সবচেয়ে আশংকার কথা হলো- ‘প্রথম আলো’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্মেসিগুলোতে ভালো ওষুধের পাশাপাশি মেয়াদ-উত্তীর্ণ ওষুধও সমানতালে বিক্রি হচ্ছে। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না। এছাড়াও আছে ভেজাল ওষুধের গোপন কারখানা!

প্রিয় পাঠক, উপরের সবটুকু পড়ার পরে আপনার মাথা যদি বনবন করে না ঘুরতে শুরু না করে তো আরেকটি তথ্য উপস্থাপন করে এই নিবন্ধের ইতি টানতে চাই। বাংলাদেশে এখন ২৬৮টি নিবন্ধিত ওষুধ কোম্পানি আছে- সেগুলো মিলে বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন করে। কিন্তু মাত্র পাঁচটি কোম্পানি এসব ওষুধের মাত্র ৩% কাঁচামাল নিজেরা তৈরি করে। বাকি কাঁচামাল দেশের বাইরে থেকে আমদানি করে আনতে হয়। অর্থাৎ ওষুধ শিল্প যত বিকশিত হবে, (সামান্য কিছু কর্মসংস্থান ব্যতিরেকে) তত বেশি কষ্টার্জিত বৈদশিক মুদ্রা হাতছাড়া হয়ে যাবে!

আমাদের দেশে ওষুধের কাঁচামাল আসে মূলত চীন ও আমেরিকা থেকে। মজার ব্যাপার হলো- আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ওষুধের চীনা কাঁচামাল মানহীন আর চীনা স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী আমেরিকান কাঁচামাল মানহীন! উভয়ের দাবি সঠিক হলে বাংলাদেশে উৎপাদিত ৯৭% ওষুধই মানহীন! এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিন- রোগাক্রান্ত হয়ে কি হাসপাতাল-ক্লিনিক অথবা ডাক্তারখানায় দৌড়াদৌড়ি করবেন, নাকি প্রাকৃতিক নিয়ম মেনে নিয়ে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে নিজেই নিজের ও পরিবারের সুস্থতা সুনিশ্চিত করবেন?

Friday, 11 December 2020

draabdussalaam my profile. who is draabdussalaam

I'm ABDUS SALAM but better known as draabdussalaam on Digital World, Social Media and Internet World; entrepreneur of HELLO DOCTOR PRIVATE LIMITED & awardee of DEPARTMENT OF SCIENCE AND TECHNOLOGY GOVERNMENT OF INDIA.

Developed yourself daily by learning and gaining knowledge from various book, person, nature & social media etc. which will help you and us for better human being, to became a winner and to get standard living.

MY SOCIAL NETWORKING SITES LINK...................

draabdussalaam@gmail.com 


draabdussalaam@yahoo.com 

https://www.youtube.com/c/DrAabdusSalaam 


https://draabdussalaam.myownwebsite.in 


https://draabdussalaammalda.myomni.in  


https://draabdussalaam.business.site 


https://draabdussalaam.websites.co.in  


http://draabdussalaam.aspx.co.in 


https://draabdussalaam.godaddysites.com  


https://draabdussalaam.justdial.com     


https://www.facebook.com/draabdussalaam

https://www.twitter.com/draabdussalaam

https://www.instagram.com/draabdussalaam

https://www.linkedin.com/in/draabdussalaam

https://draabdussalaam.wordpress.com

https://www.pinterest.com/draabdussalaam 


https://www.messenger.com/t/draabdussalaam  


https://draabdussalaam.boomer.co   

https://www.youtube.com/channel/UCJqbZ_pV3p3tedY80VcbDeQ

https://draabdussalaam.blogspot.com 


https://secure.oculus.com/my/profile/draabdussalaam 


https://about.me/draabdussalaam 


https://draabdussalaam.yolasite.com 


https://draabdussalaam.wixsite.com/home 


https://en.wikipedia.org/wiki/User:Draabdussalaam 


https://sites.google.com/view/draabdussalaam 


https://draabdussalaam.site.live 


https://draabdussalaam-27.webself.net 


https://draabdussalaam.weebly.com 


https://websitebuilder102.website.com/draabdussalaam 


https://draabdussalaam.webnode.com 


https://www.trepup.com/draabdussalaam 


http://draabdussalaam.emyspot.com 


http://draabdussalaam.simplesite.com 


http://draabdussalaam.mystrikingly.com 


https://g.page/draabdussalaam 


https://draabdussalaam.webflow.io 


https://webflow.com/draabdussalaam 


http://draabdussalaam.bravesites.com 

 

https://www.xing.com/profile/DrAabdus_Salaam 


https://www.slideshare.net/draabdussalaam 


https://slides.com/draabdussalaam  


https://medium.com/@draabdussalaam  


https://www.indiabizlist.com/business/draabdussalaam  


https://www.youth4work.com/y/draabdussalaam 


https://www.quora.com/profile/Dr-Aabdus-Salaam   


https://wa.me/919697969694 


https://telegram.me/draabdussalaam  


https://testbook.com/draabdussalaam 


https://www.payunow.com/draabdussalaam 


https://www.instamojo.com/@draabdussalaam 


https://paytm.business/link/95378/LL_52370429 


https://p-y.tm/hhE-B8j 


https://www.paypal.me/draabdussalaam 


https://www.paypal.com/paypalme2/draabdussalaam 


https://pages.razorpay.com/draabdussalaam 


https://rzp.io/l/draabdussalaam  


https://cofounderslab.com/profile/draabdus-salaam 


https://chat.whatsapp.com/H6jjeEFqyuL2FYU7ldUiXM 


https://www.facebook.com/groups/draabdussalaam 


http://www.pitnit.in/draabdussalaam 


https://unacademy.com/@draabdussalaam  


http://www.pitnit.in/business/details/Dr-Aabdus-Salaam/126601848/UKxFcicVXckgJSw5h4qXGw2/EQxLxAP9_KR4a2UIPxRMXg2 


https://socialblade.com/youtube/channel/UCJqbZ_pV3p3tedY80VcbDeQ 


https://www.flickr.com/photos/draabdussalaam 


https://www.flickr.com/people/draabdussalaam 


https://www.tumblr.com/blog/draabdussalaam 


https://draabdussalaam.weebly.com 


https://www.trepup.com/draabdussalaam  


https://www.sehat.com/dr-aabdus-salaam-cardiologist-kolkata 


https://prabook.com/web/dr_aabdus.salaam/3774100 


https://curofy.com/draabdussalaam 


https://www.chikitsa.com/doctor/dr-aabdus-salaam-homeopathy-doctor-and-therapist-kolkata   


https://www.superprof.co.in/draabdussalaam 


https://vimeo.com/draabdussalaam 


https://myspace.com/draabdussalaam 


https://break.com/draabdussalaam 


https://www.contv.com/draabdussalaam 


https://www.metacafe.com/account/draabdussalaam 


https://mixer.com/draabdussalaam 


https://www.tiktok.com/en/draabdussalaam 


https://www.vigovideo.net/draabdussalaam 


https://likee.com/@draabdussalaam 


https://ihago.net/draabdussalaam 


https://www.truecaller.com/search/in/8282828283  


https://scholar.google.com/citations?user=HrJFgBQAAAAJ&hl 


https://www.justdial.com/Malda/Abdus-Salam-Gopalpur 


https://www.indiamart.com/company/73089297 


https://www.indiabizlist.com/business/abdus-salam


https://myspace.com/draabdussalaam


https://break.com/draabdussalaam


https://mixer.com/draabdussalaam


https://www.contv.com/draabdussalaam


https://www.superprof.co.in/draabdussalaam


https://vimeo.com/draabdussalaam


http://www.docmeet.in/profiledoctor/draabdussalaam


https://www.healthgrades.com/Surgeon/dr-aabdus-salaam


https://www.logintohealth.com/amp/cardiologist/dr-aabdus-salaam


https://www.allbiz.in/dr-aabdus-salaam-033-2478-9031 


https://healthbuds.in/dr-aabdus-salaam.html


https://www.docmed360.com/kolkata/cardiologist/dr-aabdus-salaam


https://asksuba.com/address/dr-aabdus-salaam-kolkata


https://www.sulekha.com/dr-aabdus-salaam-malda-contact-address 


https://www.healthyzer.com/doctor/kolkata/dr-aabdus-salaam-cardiac-surgery


https://www.doclynk.com/pub/doc/dr-aabdus-salaam


https://www.trustmedi.com/kolkata/doctors/dr-aabdus-salaam


https://careclues.com/kolkata/doctors/cardiologist/dr-aabdus-salaam


https://www.asklaila.com/listing/Malda/dr-aabdus-salaam


https://www.emedevents.com/speaker-profile/draabdussalaam


https://www.detcare.com/doctors/kolkata/cardiologist/dr-aabdus-salaam


https://www.drdata.in/draabdussalaam-cardiologist 


https://medinspire.in/team/dr-aabdus-salaam


https://www.ratemds.com/amp/doctor-ratings/3803496/Dr-Aabdus-Salaam-Malda-WB.html


https://drlogy.com/doctors/dr-aabdus-salaam


https://www.docplexus.com/doctors/dr-aabdus-salaam


https://www.meddco.com/doctors/kolkata/Cardiologist/dr-aabdus-salaam


https://www.credihealth.com/doctor/dr-aabdus-salaam-cardiologist


https://www.lybrate.com/amp/kolkata/doctor/dr-aabdus-salaam-cardiologist


https://www.sulekha.com/dr-aabdus-salaam-malda-contact-address


https://docprime.com/dr-aabdus-salaam-cardiologist


https://www.practo.com/kolkata/doctor/dr-aabdus-salaam-cardiologist


https://www.repugen.com/reviews/draabdussalaam


https://www.medindia.net/dr/draabdussalaam


https://www.medscape.com/draabdussalaam


https://www.dealerbaba.com/suppliers/telecommunication/telephones-accessories/change-plc.html


https://www.meddco.com/doctors/Kolkata/Cardiac-Surgeon/Dr-Aabdus-Salaam


https://www.timesmed.com/draabdusslaam 


https://www.dailymotion.com/dm_9df2a5fecea07d2364866a01dbd7ec50 


https://www.vokal.in/profile/draabdussalaam  


https://meesho.com/draabdussalaam 


https://www.blogger.com/profile/09474339312809806636 


https://ads.google.com/368-323-4547 


https://www.google.com/adsense/new/u/0/pub-6638452683009538 


https://www.researchgate.net/profile/draabdussalaam  


https://www.aim4aiims.in/ug/toppers-talk-dr-aabdus-salaam 


https://figshare.com/account/profile/draabdussalaam  


https://www.myutr.com/profiles/draabdussalaam 


https://mobile.twitter.com/hashtag/draabdussalaam 


https://www.instagram.com/explore/tags/draabdussalaam 


https://business.google.com/dashboard/l/15697555913443177468 


https://web.groupme.com/join_group/58683277/Nu4km4dq 


https://www.spotify.com/in/account/overview/tv10r4pcg7ijmpw4v4p2pm7sr   


https://www.writco.in/user/draabdussalaam 


https://wire.com/en/draabdussalaam 


https://www.writco.in/Quote/Q548550225075330 


https://www.yourquote.in/draabdussalaam 


https://www.twitch.tv/draabdussalaam 


https://what3words.com/colds.joiner.okayed  


https://yourstory.com/tag/draabdussalaam  


https://www.twipu.com/draabdussalaam  


https://l.likee.video/v/WTs6M4  


https://picsart.com/u/draabdussalaam  


https://www.truecaller.com/search/in/8282828283  


https://www.instagram.com/explore/tags/draabdussalaam  


https://business.google.com/dashboard/l/15697555913443177468 


https://www.worldcat.org/profiles/draabdussalaam 


http://bit.ly/feedback_draabdussalaam  


http://bit.ly/Inquiry_draabdussalaam 


https://secure.link/hqD529AN 


https://secure.link/O6zFuWr7  


http://www.findglocal.com/IN/Maldah/1655833687992518/Dr-Aabdus-Salaam 


https://searchmydoc.in/directory/listing/dr-aabdus-salaam 


https://www.fiverr.com/draabdussalaam 


https://www.toprankers.com/dr-aabdus-salaam-4053179 


https://www.ssctube.com/dr-aabdus-salaam-4053130# 


https://attvideo.com/channel/UCRaSUdBlGvLR27nphwk945Q.html 


https://m.blog.naver.com/draabdussalaam 


https://write.as/84p5kybndticy 


https://sharechat.com/draabdussalaam 


https://vero.co/draabdussalaam 


https://draabdussalaam.godaddysites.com 


https://business.facebook.com/drabdussalam7582/?business_id=1276315709172496  

https://draabdussalaaam.whats.bz

https://tmbu.academia.edu/DrAabdusSalaam

http://wikimapia.org/28115089/Md-Safikul-Islam-s-Home

https://www.knowyourgst.com/gst-number-search/md-safikul-islam-19ABNPI1142H1ZQ

https://vymaps.com/IN/Abdus-Salam-22359

https://goo.gl/maps/FGTLfpc6UuxGjNfFA

https://giphy.com/channel/aabdussalaam

https://tangome.page.link/n7u4zeZdSiSoB5ne6

https://www.amazon.in/Kindle-Store-dr-aabdus-salaam

https://www.amazon.in/dr-aabdus-salaam-ebook

https://play.google.com/store/books/details/Dr_Aabdus_Salaam

https://www.amazon.com/Dr-Aabdus-Salaam

https://vidooly.com/youtube/channel-stats/UCRaSUdBlGvLR27nphwk945Q

https://app.hypeauditor.com/youtube/UCRaSUdBlGvLR27nphwk945Q

http://www.findglocal.com/IN/Maldah/1655833687992518/Dr-Aabdus-Salaam

https://www.bharatibiz.com/abdus-salam_1Z-075011-09911

https://www.mapsofindia.com/whitepages/businesses/index/abdussalam7582

https://burdwandoctors.com/listing/dr-aabdus-salaam

https://www.doclynk.com/pub/doc/dr-aabdus-salaam/17961

https://www.indiacom.com/kolkatacalcutta/dr-aabdus-salaam-hospital_kolkatacalcutta_kal_21159.html

https://m.sulekha.com/dr-aabdus-salaam-ballygunge-kolkata-contact-address

https://pinda.in/address/852850-dr-aabdus-salaam

https://indiapl.com/west-bengal/dr-aabdus-salaam-617411

https://asksuba.com/address/dr-aabdus-salaam-shyambazar-kolkata

https://meddco.com/doctors/Kolkata/Aabdus+Salaam

https://www.trustmedi.com/kolkata/doctors/Aabdus-Salaam/3834

https://www.tabletwise.com/users/profile/4712846682226688

https://careclues.com/kolkata/doctors/cardiologist/dr-aabdus-salaam

https://www.emedevents.com/speaker-profile/draabdussalaam

https://searchmydoc.in/directory/listing/dr-aabdus-salaam

https://www.tubebuddy.com/account?cid=UCRaSUdBlGvLR27nphwk945Q

www.hellodoctormedico.com/draabdussalaam 

https://draabdussalaam.myshopify.com/ 

https://www.okshop.in/draabdussalaamptknh 

https://www.findhealthclinics.com/IN/Old-Malda/1655833687992518/Dr-Aabdus-Salaam 

https://www.instagram.com/explore/tags/draabdussalaam 

https://www.clinicspots.com/doctor/dr-aabdus-salaam

 http://www.okshopindia.com/draabdussalaam2kekt 

https://mydukaan.online/draabdussalaam_g1ey 

  https://mydukaan.io/draabdussalaam 

https://us04web.zoom.us/j/4029705368 

https://www.findhealthclinics.com/IN/Old-Malda/1655833687992518/Dr-Aabdus-Salaam 

https://hellodoctorplc.blogspot.com/2020/09/draabdussalaam.html 

http://hellodoctor.aspx.co.in/pages/draabdussalaam/7066 

https://hellodoctorplc.websites.co.in/pages/draabdussalaam/77185 

https://popshop.co.in/draabdussalaam 

http://draabdussalaam.wapzim.com/ 

 http://draabdussalaam.wapkiz.com/ 

http://www.draabdussalaam.ezyro.com/ 

https://draabdussalaam.zyrosite.com/ 

https://draabdussalaam.000webhostapp.com/ 

https://draabdussalaam.unaux.com/ 

https://draabdussalaam.zyrosite.com/ 

https://www.bikayi.com/draabdussalaam 

https://www.gleauty.com/IN/KOLKATA/1655833687992518/Dr-Aabdus-Salaam 

https://hellodoctorplc.in/draabdussalaam 

https://telegram.dog/draabdussalaam 

https://telegram.dog/dr_aabdussalaam 

https://telegram.dog/dr_aabdus_salaam 

https://theinsta-stalkers.com/instagram/draabdussalaam

http://www.findglocal.com/IN/KOLKATA/1655833687992518/Dr-Aabdus-Salaam 

https://draabdussalaam.webflow.io/ 

https://www.findhealthclinics.com/IN/KOLKATA/1655833687992518/Dr-Aabdus-Salaam 


https://www.csclocator.com/csc/west-bengal/malda/manikchak 

https://www.gleauty.com/IN/KOLKATA/1655833687992518/Dr-Aabdus-Salaam 

https://gpay.app.goo.gl/pay-V8xVVCyyb5d 


 
 

Life Changing Advice and Dialogue by famous personality

Life Changing Advice and Dialogue by famous personality which are very important for encouraging and motivation.....
This is Dr. Aabdus Salaam. Former name طبيب عبد السلام but popularly knoown as डॉ. अब्दुस सलाम
Awarded by DEPARTMENT OF SCIENCE AND TECHNOLOGY GOVERNMENT OF INDIA. Entrepreneaur of HELLO DOCTOR 
Hello- +91 8282828283 or +91 9697969694 
Email- draabdussalaam@gmail.com 
#draabdussalaam #hellodoctorplc #hellodoctorplc.in

FAILURE...................................................
"NOTHING IS IMPOSSIBLE IN THIS WORLD BECAUSE EVERY PROBLEM HAVE A SOLUTION."--- PROPHET MOHAMMAD(PBUH)


"ALMIGHTY GIVES US SOMETHING THAT WE WANT BUT HE GIVES US EVERYTHING THAT WE NEED; SO, DO NOT BLAME YOUR GOD BECAUSE THESE ARE THE RESULT OF YOUR ACTIONS BUT GOD IS GOOD AND HE ALWAYS WANTS THE BEST."--- THE GLORIOUS KORAN


"You do not know who are you, don't know where you came from and do not know where to go after death, but from birth to death the time is just yours."--- THE HOLY GEETA


"ALMIGHTY DOES NOT CHANGE THE FATE OF ANYONE UNLESS HE WANTS TO CHANGE HIS DESTINY BECAUSE YOU CAN CHANGE YOUR HABIT & HABIT COULD CHANGE YOUR LUCK."--- THE SURPRISING KORAN



"Success isn't permanent and Failure is not final.that cause ,never stop working after success & not fullstop trying after failure because hardwork, time management, patience and self confidence makes you failure to successful and winner into loser.."--- MD YUSUF


"জীবন এমন একটি জিনিস যখন হোক যেখান থেকে হোক ইচ্ছে করলে আবার শুরু করা যায়।"--- BUTTERN RUSSELL


"প্রতিটি মানুষের মধ্যে এমন একটি শক্তি আছে যাকে কাজে লাগিয়ে সে নিজেকে পাল্টাতে পারে।"--- ALEXANDER HAXLE


"Man never fails, either he wins or he learns."--- Nelson Mandela


"If you don't change yourself, nobody else can change you because you are the master of you."--- Malala Mojasky 

"You can do anything but don't everything, if you want to do because you are the best creation of almighty."--- Prophet Mohammed (pbuh)


"Listen to everyone and learn from everyone.because nobody in this world knows everything but everybody knows something."--- Abdus Salam


"He who has never done wrong, he has not tried anything new because to do something is to be successful or defeat."--- Albert Einstein


"Waqt se pehle aur kusmat se jyada na kisiko milahe na milega."
--- *god tussi great ho(Bollywood film)*

"পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ নিজেকে জানা আর সবচেয়ে সহজ কাজ কাউকে উপদেশ দেওয়া."--- দার্শনিক থেলিস 


"There are many reasons to fail, but the only way to succeed is to try."--- Aristotle


"The secret of success is to do the common things uncommonly well."--- John D. Rockefeller


"Don’t grieve Anything you lose comes round in another form."--- Jalaluddin Rumi

SELF RESPECT..................................
A man who is a master of patience is master of everything else.- George Saville

Patience and fortitude conquer all things.- Ralph Waldo Emerson 

With love and patience, nothing is impossible.- Daisaku Ikeda 

No great thing is created suddenly.- Epictetus

নামাজের প্রাথমিক শিক্ষা। নামাজের খুঁটিনাটি বিষয়। অর্থসহ নামাজ শিক্ষা

আসুন জেনে নিই নামাজের খুঁটিনাটি...নামাজের প্রাথমিক শিক্ষা। নামাজের খুঁটিনাটি বিষয়। অর্থসহ নামাজ শিক্ষা
ABC OF SALAT...
দেখুন প্রতি মুসলিমের জন্য যেকোনো মূল্যে নামাজ আদায় করা ফরজ(compulsary) যদিও ইসলামের 5টি প্রাথমিক দায়িত্বের মধ্যে অন্যান্য বাকি 4 টি যেমন কালিমা, রোজা, হজ্ব ও যাকাত এগুলো না পারলে ক্ষমা আছে বা অন্য ভাবে আদায় করা যাবে কিন্তু নামাজ যেভাবেই হোক আপনাকে পড়তেই হবে কারণ আপনার validity এর কোনো guarantee নেই আর এই পৃথিবী তো ক্ষণস্থায়ী, যেখানে আপনাকে চিরদিন থাকতে হবে তার জন্য কিছু করুন...এই পৃথিবী তে বাঁচার জন্যে তো নিজের ভাইয়ের সাথে লড়াই করতে হলেও পিছপা হননি যদিও এখানে আপনি কদিন থাকবেন তার নির্দিষ্ট সময় জানেন না....

ধন্যবাদ সবাইকে কিছু ভুল বলে থাকলে মাপ করবেন কেন না "মানুষ মাত্রই ভুল করে"...

আরও কিছু জানতে- https://wa.me/918883898883 বা 

https://telegram.me/draabdussalaam

#নামাজ_পড়তে_হবে #সালাত_আদায়_জরুরী #draabdussalaam #hellodoctorplc #Namaj_Porte_Hobe #hellodoctorplc.in




Sunday, 18 October 2020

Eid Milad Un Nobi

 #ঈদমিলাদুন্নবীকি? #কোরআনহাদীসেরআলোকেঈদমিলাদুন্নবীসম্পর্কেধারনা। 

 #ঈদমিলাদুন্নবীউপলক্ষেকিকিকরাযেতে_পারে!  

#ঈদমিলাদুন্নবীপালনকরাকিবেদাতপাপ।  #ঈদমিলাদুন্নবীপালনকরবেনকেন? 

#ঈদমিলাদুন্নবীপালনেরগুরুত্বও_প্রয়োজনীয়তা। 


      *দোয়া করে কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না যার ইচ্ছে করবেন যা না হয় চুপ থাকবেন কেমন, অযথা মন্তব্য করে নিজের পাণ্ডিত্যের পরিচয় দেবেন না, কারণ আমি কোনো ইসলামিক বক্তা বা কোনো ইসলামিক ছাত্র ও না, তবে প্রদত্ত তথ্য গুলি আমি সংগ্রহে করে কিছু বিজ্ঞ আলেমের সহায়তায়, মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করলাম। collected and analysed by #draabdussalaam #PirNabilAshraf_UttarPradesh  #MuftiMdIbrahim_Bangladesh

 


#ঈদেমিলাদুন্নবিঅনুষ্ঠানের_প্রজন্ম:-  ষষ্ঠ হিজরী কিংবা সপ্তম হিজরীতে প্রথমবারের মত এ বিদআতটি চালু করেন আর্বিলের বাদশা আবু সাঈদ (সাঈদের পিতা) আল-মুজাফফর কুকবুরি; যেমনটি উল্লেখ করেছেন ইতিহাসবিদ ইবনে কাছির ও ইবনে খাল্লিকান প্রমুখ। ১২ই রবিউল আউয়াল নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) এর জন্মদিন হিসাবে “ঈদে মিলাদুন্নবী” পালন করে থাকে।

আবু শামা বলেন: মোসুলে প্রথমবারের মত এ বিদআতটি পালন করেন একজন মশহুর দ্বীনদার মানুষ- শাইখ উমর বিন মুহাম্মদ আল-মোল্লা। এরপর আর্বিলের বাদশা ও অন্যরা তাকে অনুসরণ করেন। 


#ঈদেমিলাদুন্নবিঅর্থ:- ঈদ শব্দের আভিধানিক অর্থ হল খুশী হওয়া, ফিরে আসা, আনন্দ উৎযাপন করা ইত্যাদি। আর মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে আমরা নবীজীর আগমনকে বুঝায়। আর ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে নবীজীর আগমনে খুশী উৎযাপন করাকে বুঝায়। সুতরাং অশান্তি আর বর্বরতায় ভরপুর সংঘাতময় আরবের বুকে আধারের বুক চিড়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শান্তি নিয়ে এসে মানবজাতিকে সত্যের, সভ্যতা ও ন্যায়ের দিক নির্দেশনা দিয়ে গোটা বিশ্বকে শান্তিতে পরিপূর্ণ করে তুলেন। নবীজীর পবিত্র শুভাগমনে খুশী উৎযাপন করাটাই হচ্ছে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। 


#ঈদেমিলাদুন্নবীপালনকরারউপকারিতা:- ঈদে মিলাদুন্নবী এর উপকারিতা সম্পর্কে জুরকানী শরীফে রয়েছে, যা আবু লাহাব সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। যেমন-

অর্থাৎ- হযরত ছুয়ায়লি (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, হযরত আব্বাস (রাঃ) এরশাদ করেন যে, যখন আবু লাহাব মারা যায় তার এক বছর পর আমি তাকে স্বপ্নে দেখি যে, সে বড়ই খারাপ অবস্থায় আছে এবং সে বলছিল, তোমাদের কাছ থেকে আসার পর আমার কোনো শান্তি নসীব হয়নি। হঁ্যা এতটুকু অবশ্যই যে, প্রত্যেক সোমবার আমার আযাব হালকা করে দেয়া হয়। তা শুনে হযরত আব্বাস (রাঃ) বললেন, এটি এ জন্যই যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার দিন দুনিয়াতে তাশরীফ এনেছেন। আর ছোয়াইবা নামী জনৈকা ক্রীতদাসী তাকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার আগমনের শুভ সংবাদ দিয়েছিল বিধায় সন্তুষ্টি চিত্তে আবু লাহাব তাকে আজাদ করে দিয়েছিল।

সূত্রঃ (ফাতহুল বারি ৯ম খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা, জুরকানী শরীফ ১ম খন্ড ২৬০ পৃষ্ঠা) হাদীসখানা আল্লামা বদরুদ্দিন আঈনি ও তার ওমদাতুল কারী শরহে ছহীহ বুখারীতে ২য় খন্ডের ২৯৯ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। 


#ঈদেমিলাদুন্নবিউপলক্ষেআমাদেরকিআমলকরা_উচিত:- রাসুল (সা.) কে আল্লাহ বলছেন ‘বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার রাসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে তাকে ভালোবাস।’ এজন্য রাসুলের (সা.) প্রতি আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করে আমরা আমল করব। যেমন ফরজ নামাজ পড়ার পাশাপাশি বেশি বেশি সুন্নত ও নফল নামাজ আদায় করা, রোজা রাখা, কোরআন শরীফ তেলাওয়াত, জুলুস বের করা তবে কোনো বাদ্য যন্ত্র বাজানো, DJ বাজানো, গান বা সঙ্গীতের মত কাওয়ালি বাজানো যাবে না, জলসা মাহফিল করা এবং গরিব মানুষ কে খাওয়ানো।


 

#আধুনিকতারআলোকেঈদে_মিলাদুন্নবি:- বিশ্বে এখন প্রায় মানুষের ঈমানেকে নবীর প্রেম থেকে বঞ্চিত করার জন্য নবীর মিলাদ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় কিছু আলেম নামের মুর্খ লোক রয়েছেন। তারা বলে নবীজী নুরের নয় আবার তার মিলাদুন্নবী জায়েজ নাই। আমার প্রশ্ন মিলাদ বা জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে তার জীবনী সিরাত সুরাত নিয়ে আলোচনা যদি নাই করা যাবে তাহলে ইসলাম প্রচার প্রসার করবো কি করে। আমরা মিলাদুন্নবী পালন করি কি কোন নির্দিষ্ট এক দিনে ? কোন নির্দিষ্ট একদিন হিসাব করে মিলাদুন্নবী পালন করলে এটাকে না জায়েজ বলা যেতো যে রাসূল শুধু একদিনের জন্য নির্দিষ্ট নয় বরং সারা বছর ই আমরা ইদ ই মিলাদুন্নবী পালন করি। বিশেষ করে রবিউল আউয়াল মাসে। কেননা এ মাসে তিনি এই পৃথিবীতে আগমন করেছেন। তাই গ্রাম গঞ্জ এর আনাচে কানাচে যারা নবীর বা ইসলাম সম্পর্কে ধারনা রাখেনা বা অনেকের ইসলামী শিক্ষা নাই এই সমস্ত লোকজন ঈমানকে মজবুদ করার জন্য বা ইসলামকে ভালবেসে ইসলামের কিছু কথা শুনে আল্লাহ ওয়ালা ও নবীর আশেক হতে পারে তাই উদ্দেশ্য করে ঈদ ই মিলাদুন্নবীর আয়োজন করা হয়। অনেকে বলে এটা বিদয়াত কারন নবী ও তার সাহাবীরা এই মিলাদুন্নবী করেন নাই। সুন্দর কথা নবীর জীবনী তার জীবদ্দশায় আলোচনা করা হবে কি করে তখন তো তিনি নিজেই মানুষদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। আর সাহাবীরা তাই করেছেন যা আল্লাহর রাসূল করেছেন। আর কোন বিখ্যাত ব্যক্তির জীবনী তার জীবদ্দশায় করা হয় না। যেমন আমাদের দেশেরে রাজনীতিতে শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান এমন করে লেখক ও সাহিত্যিকদের মৃত্যুর পরে তাদের জীবনী নিয়ে অনেক আলোচনা হয় যা আজও চলমান। আর আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাঃ হলেন পৃথিবীর বুকে সব চাইতে শ্রেষ্ঠ মানব। এমনকি আল্লাহ তায়ালার সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন যার শানে আল্লাহ নিজে ও ফেরেশতারা দুরুদ পাঠ করেছেন এবং ইমানদারদেরেকে ও পাঠ করার জন্য বলেছেন। তাহলে তার মরতবা কত দূর। সুতারাং যারা ঈদ ই মিলাদুন্নবী করেন তাদের আয়োজনে কুরআন তেলাওয়াত করা হয়, দূরুদ ও সালাম পেশ করা হয়। এখানে কোন শরীয়ত বিরোধী কাজতো হচ্ছে না।এটা বিদয়াত হলে তা হাসানাহ আবার কেউ কেউ বিদয়াতে হাসানাও মানতে রাজী নন তাহলে তারাবিহের নামাজ কি ? তাদের কাছে প্রশ্ন কেউ কেউ বলেন এটা বিদয়াত আর সব বিদয়াত ই জান্নামী তাহলে ইসলাম প্রচার করার বরতমান যে পদ্ধতি চালু রয়েছে যেমন মাদরাসায় পড়া, দাখিল, আলিম, ফাযিল, কামিল. দাওরা হাদিস যে পড়ানো হয় এটা দ্বীনি কাজ আর দ্বীনের মধ্যে এ ধরনের কাজ রাসূলে যুগে ছিল না। হজ্জ করতে যাওয়ার জন্য প্রেন ছিল না তাহলে বর্তমানের যে বিজ্ঞানের আবিস্কার তা ছিল না তাহলে এ সব কিছুই জাহান্নামী হয়ে যায় কারন এগুলো বিদয়াত আবার দেখি আরবী শেখার জন্য আরবী গ্রামারে এটা রাসূলের যুগে ছিল না তাহলে যারা এই কাজ করেন তাহলে তারাকি ঠিক করছেন। তাই ভাইদের কাছে আমার প্রশ্ন নবীর জীবনী আলোচনা তার স্বরণ করা তার সানে দুরুদ পাঠ ও দোয়া অনুষ্ঠান করা আপনার কাছে বিদায়াত মনে হয় তাহলে ইন্জিন চালিত গাড়ী, লঞ্চ এ জাতীয় অনেক নতুন আবিস্কার, তা ছাড়া আপনি যে ইউটিউব এর মাধ্যমে আমাদের জানালেন তা ও নুতন আবিস্কার এর মাধ্যমে বললেন এটাতো বিদায়াত। এটা জাহান্নামী কাজ করলেন তাহলে এটা কি হলো। ইসলামটাকে বাড়াবাড়ি করে আমাদের ঈমানটাকে নষ্ট করবেন না। দয়া করে অল্প ইলম অজন করে নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবেন না। যারা নেক কাজ করে ইসলামকে ভালবাসে তাদের সাথে তাদের মনটাকে ভেঙ্গে দেবেন না প্লিজ। দোয়া দুরুদ এগুলো ভাল কাজ। হে আপনি একটু এভাবে বলতে পারেন যে, আপনারা বেয়াদবীর সাথে ঈদ ই মিলাদুন্নবী পালন থেকে বিরত থাকুন। সেটা হলো নারী পুরুষ এক সাথে নয় পর্দা বাজায় রেখে পালন করুন। মিছিল মিটিং নয় বরং কিছু মানুষ দাওয়াত করে মাহফিল অথবা দোয়ার মাধ্যমে পালন করুন। ভাই সমাজে বিশৃংখলা সৃস্টি করা কি ঠিক। কোন কাজ হারাম বলার আগে তার কুরআনের ও হাদীসের দলিল প্রয়োজন। ঈদ এ মিলাদুন্নবীর ব্যাপারে কুরআনে বলা হয়ছে قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَ بِرَحْمَتِهِ فَبِذَالِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَا خَىْرٌ مِمَّا ىَجْمَعُوْنَ আর্থাৎ- “হে রাসুল আপনি বলুন আল্লাহর “অনুগ্রহ” ও “রহমত” প্রাপ্তিতে তাঁদের মুমিনদের খুশি উদযাপন করা উচিত এবং এটা হবে তাদের অর্জিত সকল কর্মফলের চেয়েও শ্রেষ্ট” তাহলে আল্লাহর রাসূল পৃথিবীতে আসলেন। অন্ধকার দূর করলেন আমরা ইসলমামের সুশিতল ছায়া তলে আশ্রয় নিলাম এটা কি আনন্দের নয়।আপনি বললেন ফরজ 2 রাকাতের চয়ে 4 রাকাত করার কথা মানুষ এতটা নির্বোধ বোকা হয়নি। ঈদ এ মিলাদুন্নবী ফরজ, সুন্নাত,ওয়াজিব নয় বরং মুস্তাহাসান বা নেক আমল করার জন্য পালন করা হয়। এখানে কোন গান, বাদ্য, বাজনা যা ইসলাম নিষেধ করেছেন এমন কোন কাজ করা হয় না। সুতারাং এটা কোন একদিন কে নির্দিষ্ট করে ঈদ এ মিলাদুন্নবী পালন করা বা জন্ম দিন পালন করা হয় না বরং এটা পুরো রবিউল আউয়াল মাসেই পালন করা হয় মানুষেরে মাঝে ইসলামকে স্বরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য। দেশের সবাইতো শিক্ষিত মানুষ নয় অনেক গ্রাম গঞ্জের মানুষ এর মাধ্যমে ইসলামকে বুঝতে পার। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আমরা পৃথিবীর সমস্ত মুসলমানকে ভালবাসি। তবে হকের উপর যারা রয়েছেন তাদের পক্ষে কেননা কুরআনে নিষেধ করেছেন মাজার পুজা করতে সেজদা করতে কিন্তু যারা এমন আরো যা কাজ রয়েছে তাদের পক্ষে নয়। আল্লাহ আমাদেরকে সহি বুঝ দান করুন। আর সর্বাবস্থায় আবদুল্লাহ ইবনে উবাই অর্থাত মুনাফিকদের মত না হওয়ার তৌফিক দান করুন। কেননা মুনাফিকরাই সব সময় ঈমানকে নষ্ট করেছেন। সকলের কাছে আমার আবেদন আসুন আল্লাহর রাসূলের আদর্শে আদরশীত হয়ে তার শানে দুরুদ পাঠ করি এবং তার জীবনী পর্যালোচনা করে গেটে সেই অনুযায়ী আমল করার তৌফিক আল্লাহ আমাদেরকে দান করুন -----আমিন।


 

#ঈদেমিলাদুন্নবিপালনকরাযাবেনাকেন:- ১২ই রবিউল আউয়াল নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) এর জন্মদিন হিসাবে “ঈদে মিলাদুন্নবী” পালন করে থাকে। 

যে ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক আমার নামে মিথ্যা হাদিস রটনা করে, সে জাহান্নামে তার ঘর তৈরী করুক’।[সহীহ বুখারী ১১০]

 '‘তোমরা আমাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, যেভাবে খ্রিষ্টানগণ ঈসা(আ) সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করেছে।... বরং তোমরা বল যে, আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।’’

[সহীহ বুখারী ৩৪৪৫] 

আমাদের এ ধর্মে যে নতুন বিষয় প্রচলন করবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।- বুখারী ও মুসলিম শরীফ

সাবধান ধর্মে প্রবর্তিত নতুন বিষয় থেকে দূরে থাকবে। কারণ নতুন চালু করা প্রতিটি বিষয় হলো বেদাত আর বেদাত হল পথভ্রষ্টতা।- আবুদাউদ, তিরমিজি, ইবনেমাযা ও আহমদ শরীফ।

ঈদে মিলাদুন্নবী হল খ্রিস্টানদের বড়দিন, হিন্দুদের জন্মাষ্টমী আর বৌদ্ধদের বৌদপূর্নিমার মতো। কেননা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুসরণ করবে সেই ব্যক্তি তাদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। 

শুনে রাখো, হাউজে কাউসারের কাছে তোমাদের সাথে আমার দেখা হবে। তোমাদের সংখ্যার আধিক্য নিয়ে আমি আনন্দিত হবো। সেই দিন তোমরা আমার চেহরা মলিন করে দিও না। জেনে রাখো, আমি সেইদিন অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা চালাব। তখন তাদের মধ্যে অনেককে আমার কাছে থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া হবে। আমি তখন বলবো হে আমার পালনকর্তা, প্রতিপালক তারা তো আমার প্রিয় সাথী সঙ্গী, আমার অনুসারী; কেনইবা তাদের আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন? আল্লাহ্ উত্তরে বলবেন- হে নবী আপনি জানেন না, আপনার পরলোক গমনের পর(মারা যাওয়ার পর) তারা ধর্মের মধ্যে নতুন বিষয় প্রচলন করেছিল। 


#কুরআনঈদেমিলাদুন্নবী:- আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন বলেন-

অর্থাৎ- আল্লাহ বলেন, হে প্রিয় রাসূল! আপনি স্মরণ করুন ঐ দিনের ঘটনা”- (রোজে আজলের সময়ের) যখন আমি (আল্লাহ) আম্বিয়ায়ে কেরামগণের নিকট থেকে এইভাবে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, যখন ‘আমি তোমাদেরকে কিতাব এবং হিকমত’ অর্থাৎ নবুয়ত দান করবো, অতঃপর তোমাদের কাছে এক মহান রাসূলের শুভাগমন হবে- যিনি তোমাদের প্রত্যেকের নবুয়তের সত্যায়ন করবেন, তখন তোমরা সকলে অবশ্যই তাঁর উপর ঈমান আনযন করবে এবং সর্বোত্তমভাবে তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করবে। তোমরা কি এ কথার অঙ্গীকার করছো এবং অঙ্গীকারে কি অটল থাকবে? সমস্ত নবীগণ বললেন- হাঁ, আমরা অঙ্গীকার করলাম। আল্লাহ তায়ালা বললেন- তোমরা পরস্পর স্বাক্ষী থেকো এবং আমি ও তোমাদের সাথে স্বাক্ষী রইলাম। এর পরেও যে কেউ পিছপা হয়ে যাবে- তারা হবে ফাসেক।

সূত্রঃ তৃতীয় পারা, সূরা আল-ইমরান ৮১-৮২ নং আয়াত।

এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো (১) আয়াতের ইবারাতুন নস-এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, অন্যান্য নবীগণ থেকে আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার আদায় করেছিলেন। (২) দালালাতুন নস- এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, সমস্ত নবীগণ সেদিন মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। (৩) ইশারাতুন নস- এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, মূলত ঐ মাহফিলটি নবীজীর আগমনী বা মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর মাহফিল ছিল। (৪) ইক্বতেজাউন নস- এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ঐ সময় সমস্ত নবীগণ কি্বয়াম অবস্থায় ছিলেন। কারণ ঐ দরবারে বসার কোন অবকাশ নেই এবং পরিবেশটিও ছিল আদবের।

আরো লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে- এই আয়াতে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থাৎ নবীজীর আগমন সম্পর্কে রোজ আজলের মধ্যে সমস্ত নবীগণকে উপস্থিত রেখে আলোচনা করেছেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন প্রিয় আল্লাহর রাসূল, তাঁর সাথে মানুষের তুলনা হবেতো দূরের কথা, অন্য কোনো নবীর ও তুলনা হয়না। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা সমস্ত নবীদের নিকট দুটি হুশিয়ারী বাণী প্রদান করেছেন। যথা- (১) আমার বন্ধুর উপর ঈমান আনতে হবে। (২) আমার বন্ধুকে সর্বোত্তমভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে।

মানুষ যখন কোনো নেয়ামত ও রহমত প্রাপ্ত হয় তখন তার জন্য আনন্দ উৎসব করা তার স্বভাবগত কাজ, আর আল্লাহর নির্দেশও তাই। যেমন- পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন-

অর্থাৎ- হে মানবকুল তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং অন্তর সমূহের বিশুদ্ধতা, হেদায়াত এবং রহমত ঈমানদারদের জন্য। হে হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি বলুন! আল্লাহরই অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া প্রাপ্তিতে তারা যেন আনন্দ প্রকাশ করে। এটা তাদের সমস্ত ধন দৌলত সঞ্চয় করা অপেক্ষা শ্রেয়। (সূরা ইউনুছ, আয়াত নং- ৫৭-৫৮)।

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ূতী (রহঃ) তাঁর তাফসীর গ্রন্থ আদ দুররুল মুনছুর এ উল্লেখ করেন-

অর্থাৎ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন এখানে আল্লাহর অনুগ্রহ (ফাদ্বলুল্লাহ) দ্বারা ইলমে দ্বীন বুঝানো হয়েছে আর (রহমত) দ্বারা সরকারে দু’আলম নূরে মোজাচ্ছম আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। যেমন- আল্লাহ তায়ালা বলেন, (ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতালি্লল আলামীন) অর্থাৎ হে হাবীব আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত করেই প্রেরণ করেছি।

সূত্রঃ সূরা আম্বিয়া আয়াত নং- ১০৭, তাফসীরে রুহুল মায়ানী, তাফসীরে কবির ও ইমাম সূয়ূতী (রহঃ) কৃত তাফসীরই আদ দুররুল মুনছুর, ৪র্থ খন্ড- ৩৬ পৃষ্ঠায় ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

সামান্য জাগতিক নিয়ামত লাভ করলে তজ্জন্য ঈদ উৎসব করার সরাসরি উদাহরণ আমরা পবিত্র কুরআন মাজীদে দেখতে পাই। যেমন-

অর্থাৎ- মরিয়ম তনয ঈসা (আঃ) আরয করলেন, হে আল্লাহ! হে আমাদের রব, আমাদের উপর আকাশ থেকে একটা খাদ্য খাঞ্চা অবতরণ করুন যা আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী সকলের জন্য ঈদ হবে এবং আপনারই নিদর্শন হবে, সুতরাং আমাদেরকে রিযিক দান করুন। আর আপনিইতো হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিক দাতা। (সূরা মায়েদা, আয়াত নং- ১১৪)।

এ আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে খাঞ্চাভরা খাদ্য আসলে তা যদি হযরত ঈসা (আঃ)-এর ভাষায় পূর্ব ও পরবর্তী সকলের জন্য আনন্দ, উৎসবের কারণ ও আল্লাহর নিদর্শন হয়, তাহলে সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম সত্ত্বা, রহমতের ভান্ডার, প্রিয় নবী আকাও মাওলা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার মত মহান নিয়ামতের শুভাগমনের দিন কতইনা মর্যাদাবান, গুরুত্বপূর্ণও আনন্দের দিন বা মাস তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিল কি-না?

আল্লামা শাহাবুদ্দীন ইবনে হাজর হায়তামী (রহঃ) বলেন, খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করার নীতি প্রচলন ছিল। যেমন-

অর্থাৎ- হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করার জন্য এক দিরহাম অর্থ খরচ করবে, সে ব্যক্তি বেহেশ্তে আমার সাথী হবে”। হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাজীম ও সম্মান করলো, সে যেন ইসলামকেই জীবিত রাখলো”। হযরত ওসমান (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করার জন্য এক দিরহাম অর্থ খরচ করলো, সে যেন বদর ও হোনাইনের যুদ্ধে শরীক হলো”। হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করবে এবং মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করার উদ্যোক্তা হবে, সে দুনিয়া থেকে (তওবার মাধ্যমে) ঈমানের সাথে বিদায় হবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে”। সূত্রঃ আন নে’মাতুল কোবরা আলাল ফি মাওলিদি সাইয়্যেদ ওলদে আদম ৭-৮ পৃষ্ঠা। 

মহান আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফে ইরশাদ ফরমান- “হে মানবকুল! তোমাদের কাছে উপদেশ বাণী এসেছে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের ব্যাধির নিরাময়, হিদায়েত ও রহমাত মুসলমানদের জন্য। হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম আপনি বলুন, আল্লাহ’র অনুগ্রহ এবং তাঁর দয়ায় সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হওয়া উচিত। এটিই উত্তম সে সমুদয় থেকে যা তাঁরা সঞ্চয় করেছে। (সুরা ইউনুস : ৫৭-৫৮)

অত্র আয়াতে কারিমায় ‘হিদায়েত ও রহমাত’ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। এবং এটি সমস্ত আমলের চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে। এখন বিচার এই যে, ‘হিদায়েত ও রহমাত’ দ্বারা উদ্দেশ্য কি? এ সম্পর্কে বিশ্ব বিখ্যাত ‘তাফসিরে তাবায়ী’ শরিফের মধ্যে ইমাম  ইবনে জারীর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাছ থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘হেদায়েত’ দ্বারা উদ্দেশ্য ইসলাম আর ‘রহমাত’ দ্বারা উদ্দেশ্য কোরআন।

হাফেজে হাদিস আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতি রাহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহি তার বিশ্বনন্দিত তাফসির ‘আদদুরূল মানসুর’ এর মধ্যে একই সাহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন।

‘রুহুল মায়ানি’তে আল্লামা নিসারুদ্দীন মাহমুদ আলুসী রাহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহি এরুপ বর্ণনা করেন। তাফসিরের বর্ণনায় এস্পষ্টভাবে বোঝা যায় তোমরা মহামূল্যবান সম্পদ পেয়েছ এজন্য ঈদ পালন কর বা খুশি উদযাপন কর।

পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নং আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আর আমি আপনাকে জগৎসমূহের জন্য একমাত্র রহমাত হিসেবেই প্রেরণ করেছি। এখানে রহমাত বলতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামকে বলা হয়েছে। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আর তোমরা সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ কর। যা আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে দান করেছেন। (সূরা আল ইমরান : ১০৩) 

আল্লাহ তা’আলা দুনিয়াতে যত নিয়ামত দান করেছেন তার মধ্যে সর্বোত্তম নিয়ামত হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম। এ দুটি আয়াতের আলোচনায় এস্পষ্ট প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম-এর দুনিয়াতে আগমনের দিন আনন্দ উৎসব তথা ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম পালন করা সর্বোত্তম আমল।

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম উদযাপন করা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম-এর আনুগত্যের বহি:প্রকাশ। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তোমরা আল্লাহ’র কথা মান্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা সৎশাসক তথা ইমাম, মুজতাহিদ সৎশাসক শরিয়াতের আইনজ্ঞ মাযহাবের ইমামগণ তাদের আনুগত্য কর।”

উপরিউক্ত আলোচনায় আমরা জানতে পারি পবিত্র কোরআনে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আলোচনা রয়েছে। এবং এটাকে উত্তম আমল বলা হয়েছে। সুতরাং এটা আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে মহান ইবাদাতে পরিণত। 


#হাদিসেঈদমিলাদুন্নবী:- প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ও সাহাবায়ে কিরাম রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহুদের যুগেও মিলাদ শরিফ পালিত হয়েছে। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মিলাদ সম্পর্কে প্রায় ২১৮টি হাদিস রয়েছে। এখানে তার কয়েকটি হাদিস আলোকপাত করা হলো।

মুসলিম শরীফের কিতাবুজ যুহুদ ওয়াররকায়েক অধ্যায়ে ৫৩ পৃষ্টায় বর্ণিত আছে, প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মক্কা ত্যাগ করে মদীনা শরীফের প্রান্ত সীমানায় প্রবেশ করলেন তখন নবী প্রেমে আত্মোত্‍সর্গীত সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম) এবং মদীনার শিশু,যুবক,বৃদ্ধ,বণিতা সকলেই প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে প্রাণঢালা সম্বর্ধনা ও অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের জন্য এগিয়ে আসেন।হাদীস শরীফের এরশাদ হয়েছে তখন মদীনার নারী পুরুষ ঘরের ছাদ সমূহের উপর আরোহণ করেন ছোট ছোট ছেলে ও ক্রীতদাসগণ মদীনার অলিতে গলিতে ছড়িয়ে পড়েন,সকলে সমবেত কণ্ঠে “ইয়া মুহাম্মাদ”, “ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)” ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তোলেন।  

সাহাবী আবু কাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, একদিন নবীজী কে সোমবারে রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করা হল। তিনি উত্তরে বললেন- এদিন আমার জন্ম হয়ছে, আর এদিনেই আমার উপর নবুয়াত দেওয়া বা কোরআন শরীফ নাজিল করা হয়েছে।-মুসলিম শরীফ 

তাছাড়া নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর হিজরতের সময় “সানিয়াতুল বিদা” নামক স্থান থেকে সাহাবায়ে আনছারগণ “আল্লাহু আকবার” “ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)” শ্লোগাণ দিয়ে প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন,প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর জন্মক্ষণে ও মিরাজের ঐতিহাসিক রজনীতে ফেরেস্তাগণ প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর সম্মানার্থে “জশনে জুলুস” বের করেছিলেন এছাড়া হিজরতের প্রাক্কালে মদীনার মুসলমানগণ ঐক্যবদ্ধভাবে রাহমাতুল্লিল আলামীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে “জাহরুল হারা” নামক স্থানে গমন জশনে জুলুসের এক অভ্রান্ত দলীল এবং সুদৃঢ় ভিত্তি।

(বুখারী শরীফ ১ম খন্ড ১৫৪ পৃষ্ঠা) হাদীসের বর্ণনাতে প্রতি মুহুর্তে সত্তর হাজার নূরানী ফেরেস্তা মদীনা মনোয়ারায় পবিত্র রওজা শরীফের চতুর্দিকে প্রদক্ষিন করছে এবং সালাত ও সালামের সওগাত ও নজরানা পেশ করছে এবং করতে থাকিবে।জশনে জুলুসের বৈধতা প্রমানে এটি ও এক নির্ভরযোগ্য সূত্র।এতে প্রতীয়মান হলো জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম) পালন করা বিদআত নয় বরং সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত এবং সর্বকালের প্রচলিত প্রথাসিদ্ধ সর্বজন গ্রাহ্য পুন্যময় আমল,এর বিরোধীকারীরা গোস্তাখে রাসূল ছাড়া কিছুই নয়।

“হযরত ইবনে আব্বাস রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন, আমি আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে পরস্পরা ধারায় বৈবাহিক সূত্রে মিলনের ফলে মানবরূপে আমার পিতা-মাতা থেকে জন্মলাভ করেছি। ব্যভিচার বা যিনার মাধ্যমে নয়।” (ইবনে সাদ, ইবনে আসাকির, তাবরানী, মাসনাদে ওমর, আবু নাঈম, ইবনে আবি শাইবা, মাসনাদুল ফেরদাউস) 

হযরত আনাস রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ভাষণে বলেছেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মোতালেব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুশাই ইবনে মালেক ইবনে নফর ইবনে কিনানা ইবনে খুযাঅহ  ইবনে মুফরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে যুফার ইবনে নাযার। যে স্থানে মানুষ দু’দলে বিভক্ত হয়েছে সেখানে আল্লাহতা’আলা আমাকে উত্তম দলে রেখেছেন। আমি আমার পিতা-মাতা থেকে জন্মগ্রহণ করেছি।” “হযরত ইরবাদ্ব ইবনে সারিয়াহ রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন, তখন থেকে আমি আল্লাহ তা’আলার বান্দা এবং নবীকুলের সর্বশেষ নবী, যখন আদম আলাইহি-সসালাওয়াতু ওয়া-সাল্লাম মাটির সঙ্গে মিশ্রিত ছিলেন। আমি তোমাদের আরও জানাচ্ছি যে, আমি হলাম আমার পিতা নবী হযরত ইবরাহিম আলাইহি-সসালাওয়াতুু ওয়া-সাল্লাম-এর দু’আর ফসল এবং নবী হযরত ঈসা আলাইহি-সসালাওয়াতু ওয়া-সাল্লামের সুসংবাদ, আর আমার মাতার স্বপ্ন। নবীদের মাতাগণ এভাবেই স্বপ্ন দেখতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের মাতা তাকে প্রসবের সময় এমন এক নূর প্রকাশ পেতে দেখলেন যার আলোতে সিরিয়ার মহলগুলো দেখা যাচ্ছিল।” (মুসনাদে আহম্মদ, তাবরানী, হাকেম, বায়হাকি, আবু নাঈম)

“হযরত আনাস রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন, আমি আমার রবের নিকট থেকে সম্মানিত যে, আমি খাতনা অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছি। আমার লজ্জাস্থান কেউ দেখেনি।” (তাবারানী আওসাত) “হযরত আবু কাতাদাহ আনসারী খাজরাজি রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের কাছে সোমবার রোজা রাখা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উত্তরে বলেন, এদিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এইদিনে আমার প্রতি নবুয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।” (মুসলিম শরিফ ৩৬৪পৃষ্ঠা, মুসনাদে আবী শাইবা)

#রাসূলনিজেইমিলাদবর্ণনাকরেছেন:- হযরত মুতালেব ইবনে আবু ওয়াদাহ রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আব্বাস রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম সম্পর্কে কারো কাছ থেকে যেন কিছু বিরূপ সমালোচনা ও কথাবার্তা শুনে তার কাছে এসে তা বললেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম মিম্বরের উপর বসে উপস্থিত সাহাবিদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কে? তোমরা জান কী? সাহাবিগণ বললেন, আপনি আল্লাহ’র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম। আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক! তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বললেন, আমি হচ্ছি আবদুল্লাহ’র পুত্র আব্দুল মুত্তালিবের নাতি। আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করে আমাকে সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অত:পর সৃষ্টিকুলকে দু’টি দলে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম দলে রেখেছেন। অত:পর অনেক গোত্র সৃষ্টি করে আমাকে উত্তম গোত্রে সৃষ্টি করেছেন। পরিবারে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং স্বত্তাগতভাবে সম্মানীত করেছেন।” (তিরমীযি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন)    

হযরত সালমান রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামকে বলতে শুনেছি, হযরত আদম আলাইহি-সসালাওয়াতু ওয়া-সাল্লাম সৃষ্টির চৌদ্দ হাজার বছর পূর্বে আমি এবং অলি আল্লাহ তা’আলার সম্মুখে একটি নূর রূপে ছিলাম। অত:পর আল্লাহ তা’আলা দু’টি ভাগে ভাগ করেন। এর একটি ভাগ হচ্ছি আমি এবং অপরটি হচ্ছেন অলিগণ। (মাসনাদে আহমদ মানাকিব)    


#সাহাবায়েকেরামএবংঈদমিলাদুন্নবী:- আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতী রমাতুল্লাহ তার কিতাবের মধ্যে উল্লেখ করেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। একদা তিনি নিজ ঘরে সমবেত সাহাবীগণকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের বিলাদাত/মিলাদ শরিফের ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছিলেন। এতে শ্রবণকারীগণ আনন্দ ও খুশি তথা ঈদ প্রকাশ করতেছিলেন এবং আল্লাহ পাকের প্রশংসা করতেছিলেন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের উপর দরুদ শরিফ পাঠ করতেছিলেন এমতাবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম সেখানে উপস্থিত হলেন এবং তাদের অবস্থা দেখে বললেন, তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব। উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ আছে, হযরত আবু দারদা রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামসহ আবু আমের আনসারী রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহু-এর বাসায় উপস্থিত হয়ে দেখলেন, তিনি তার সন্তানাদি, আত্মীয়স্বজন, জাতি-গোষ্ঠী, পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের বিলাদাত শরীফের ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, এইদিন (অর্থাৎ এইদিনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম আগমন করেছেন) এতদার্শনে ও শ্রবণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর রহমাতের দরজা তোমাদের জন্য খুলে দিয়েছেন ও সমস্ত ফিরিশতাগণ তোমার জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন। আর বলেন, যে তোমার মতো এরূপ কাজ করবে, সেও নাজাত পাবে। সুবহানআল্লাহ। এ হাদিস দু’টি দ্বারা প্রামাণিত হলো, সাহাবায়ে কেরামদের যুগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের মিলাদ তথা জন্মদিন বা জন্মকাহিনী ও তৎসংশ্লিষ্ট আলোচনা হতো।   


#Conclusion:-হাদীস শরীফে রাসূল (সাঃ) ফরমান যে, “সর্ব প্রথম আল্লাহ্‌ তায়ালা আমার নূর কে সৃজন করেছেন। আমি আল্লাহ্‌র নূর হতে আর সমগ্র সৃষ্টিরাজী আমার নূর হতে।” [ সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা-৩]

হাদীসে কুদসিতে ইরসাদ হয়েছে, “আমি আপনাকে সৃষ্টি না করলে কোন কিছুই সৃষ্টি করতাম না।” [সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা-৭০]

আরেক হাদীসে বর্ণিত আছে, “আদম যখন পানি ও কাদার মধ্যে ছিলেন আমি তখনো নবী ছিলাম।” অর্থাৎ আদমের যখন অস্তিত্ব ছিলনা তখনো হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) নবী ছিলেন।

সুতরাং এই ৩টি হাদীস থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার যে আল্লাহ্‌র এই সৃষ্টি জগত সৃষ্টির মূলে ছিলেন আমাদের দয়াল রাসূল (সাঃ) আর সেই জন্য তাকেই সর্বপ্রথম সৃষ্টি করা হয়েছিল। অথচ সব নবীর শেষ নবী হিসেবে এই ধুলির ধরায় তিনি আগমন করলেন হিজরীপূর্ব ৫৩ সালের ১২ই রবিউল আওয়াল রোজ সোমবার সুবেহ সাদিকের সময়। রাসূল কে তার আপন পরিচয়ে জগতে প্রেরনের পূর্বে আল্লাহ্‌ ১লক্ষ ২৪ হাজার নবী-রাসূল প্রেরন করেছিলেন মূলত পৃথিবীতে তার আগমনের ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য। সৃষ্টির শুরুতেই সমস্ত নবী-রাসূলদের কাছ থেকে তিনি অঙ্গিকার নিয়েছিলেন প্রত্যেকেই যেন তার সজাতির কাছে রাসুল (সাঃ) এর কথা তুলে ধরে। এ প্রসঙ্গে তিনি এরশাদ করেন, “স্মরণ কর!যখন আল্লাহ নবীগনের কাছ থেকে অঙ্গিকার নিয়েছিলেন যে, তোমাদের কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি এবং অতঃপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থক রুপে যখন একজন রাসূল (মহাম্মদ-সাঃ) আসবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে ও তাকে সাহায্য করবে। তিনি (আল্লাহ্‌) বললেন, তোমরা কি স্বীকার করলে? এবং এ সম্পর্কে আমার অঙ্গিকার কি তোমরা গ্রহন করলে? সকল নবী-রাসূল বললেন, আমরা স্বীকার করলাম। তিনি (আল্লাহ্‌) বললেন,তবে তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সাক্ষী রইলাম।” (আল ইমরানঃ ৮১)

সুতরাং যে মহামানবকে উদ্দেশ্য করে এই বিশ্ব জাহান সৃষ্টি সেই মহামানব যেদিন সশরীরে এই ধুলির ধরায় আগমন করেছিলেন সেই দিনটি যে স্বয়ং রাব্বুল আলামীনের কাছেও খুশির দিন ছিল একথা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। অথচ দয়াল রাসূলের আশেকরা যখন এই পবিত্র দিনটিতে খুশি হয়ে ঈদ সমমর্যাদায় দিনটি উদযাপন করতে যায় তখন সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ এই পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নাবী (সাঃ) কে বেদআত হিসেবে আখ্যায়িত করে। বেদআত সংক্রান্ত যত হাদীস আছে তা দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে এই ঈদ-এ-মিলাদুন্নাবী (সাঃ) পালন বেদআত। আমাদের দুর্ভাগ্য যে নিজ ধর্মের কিছু ব্যাক্তি বিশেষের অজ্ঞতার কারনেই মুসলিম জাতি হিসেবে আমরা কখনও ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনি। ইসলাম আজ নানা মত, নানা দলে বিভক্ত। আর এত সব দল-মত যা তৈরি হয়েছে সব-ই যার যার নিজের খেয়াল-খুশি মতো ব্যাখ্যা দেয়ার প্রবণতার কারনেই।

যারা ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী কে যারা বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে তাদের বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু হল, ক) কোরআন-হাদীসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) বলে কিছু নাই, খ) ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতর এর বাহিরে অন্য কোন দিনকে ঈদ হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবেনা, গ) রাসূল (সাঃ) এর জামানায় এই ঈদ-এ-মিলাদুন্নাবী (সাঃ) ছিলোনা, ঘ)এই দিনটি রাসূল (সাঃ) এর ওফাত দিবসও বটে।

এই মুসলিম জাতির আজ এতই দুর্দিন যে রাসূল (সাঃ) যে দিনটিতে পৃথিবীতে আগমন করেছেন সেই দিনে খুশী হবে নাকি হবেনা, আনন্দ প্রকাশ করবে নাকি করবেনা তা নিয়েও আজ বিতর্কে জড়ায়। এই পবিত্র দিনটির নামের সাথে “ঈদ” শব্দটা জুড়ে দেয়ার ক্ষেত্রও অনেকের কতই না আপত্তি। এটা আবার কোন ঈদ? ঈদুল আযহা আর ঈদুল ফিতর এর বাহিরে অন্য কোন দিনকে ঈদ হিসেবে মূল্যায়ন করতে তারা নারাজ। আসলে অল্প বিদ্যা সব সময়-ই ভয়ঙ্কর। তাহলে আলোচনায় আসা যাক যে রাসূল (সাঃ) এর জন্মের এই শুভ দিনকে ঈদ বলাটা আসলেই অযৌক্তিক কিনা এবং কোরআন-হাদিস এই পবিত্র দিনটি পালন করাকে সমর্থন করে কিনা।

আল ইজহার- অভিধানে বলা হয়েছে, “আনন্দপূর্ণ সকল সমাবেশে আরব জাতির কাছে ঈদ নামে আখ্যায়িত, কেননা এর প্রত্যাবর্তনে আনন্দের প্রত্যাবর্তন ঘটে।”

মিছবাহুর লুগাত নামক বিখ্যাত অভিধানে বলা হয়েছে, “ঈদ ঐ সকল দিন, যা কোন মার্যাদাশীল ব্যক্তি বা কোন ঐতিহ্যবাহী ঘটনার স্মরণে হয়।”

জামেউল বয়ান ফি তাফসীরুল কুরআন-গ্রন্থে বলা হয়েছে, “কোন নিয়ামত অবতীর্ণ হওয়ার বা কোন নিয়ামত প্রকাশের দিন কে ঈদ বলে।”

ইবনুল আরাবী (রাহঃ) বলেন, “ ঈদকে ঈদ নামে রাখার কারণ হল-প্রতি বছর নব আনন্দ নিয়ে তা ফিরে আসে। (কাওয়ায়েদুল ফিকহ-৩৯৬)

হযরত ইবনে আব্বাস (রাদ্বিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা “আল ইয়াওমা আকমালতু লাকুম দ্বীনাকুম” অর্থাৎ “ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম” এ আয়াত শরীফটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। তখন তাঁর নিকট এক ইহুদী ছিল। সে বলে উঠলো, “ যদি এই আয়াতটি আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো আমরা আয়াত নাযিলের দিনটিকে “ঈদ” বলে ঘোষণা করতাম।” এটা শুনে হযরত ইবনে আব্বাস (রাদ্বিঃ) বললেন, এ আয়াতটি সেই দিন নাযিল হয়েছে যে দিন এক সাথে দু’ঈদ ছিল। যথা- ১.জুমআর দিন এবং ২. আরাফার দিন।” (তিরমীযি শরীফ)। হাদিস শরীফে আরও ইরশাদ হয়েছে, “হযরত উবায়েদ বিন সাব্বাক (রাঃ)বর্ণনা করেন, হযরত রাসুল পাক (সাঃ) এক জুমআর দিনে বলেন, হে মুসলমান সম্প্রদায়! এটি এমন একটি দিন যাকে আল্লাহ পাক ঈদ স্বরূপ নির্ধারণ করেছেন।” (ইবনে মাযাহ, মুয়াত্তা মালিক, মিশকাত)

উক্ত হাদীস অনুযায়ী জুম’আ ও আরাফার দিবসকেও আরো দুই ঈদ বলা হয়েছে। ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর-এই দুই ঈদ যেভাবে হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত ঠিক সেভাবেই ঈদ হিসেবে জুমাবার ও আরাফার দিনও হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পাশাপাশি রাসূল (সাঃ) এর হাদীস অনুযায়ী বিষয়টা পরিস্কার যে ঈদুল আযহা আর ঈদুল ফিতর ছাড়াও আমাদের ধর্মে আরো ঈদ আছে এবং সেই হিসেবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার বাহিরে আর কোন দিনকে ঈদ বলা যাবেনা-এই বক্তব্যের কোনই যৌক্তিকতা নেই।

কোরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন, “আপনি বলুন! আল্লাহ্‌র এ অনুগ্রহ ও রহমত প্রাপ্তিতে আনন্দ প্রকাশ করা উচিৎ তা তদের সমস্ত ধনদৌলত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” [সূরা ইউনুসঃ ৫৮] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ৯ম শতাব্দীর ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রঃ) তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ‘আদ্দুররুল মনসূর’ এ উল্লেখ করেন, "হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, এখানে আল্লাহ এর “অনুগ্রহ” দ্বারা ইলমে দ্বীন এবং “রহমত” দ্বারা নবী কারীম (সাঃ) এর কথা বুঝানো হয়েছে। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা আলুসি (রহঃ) তাঁর স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেন, "হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই ‘অনুগ্রহ’ হল ইলমে দ্বীন এবং ‘রহমত’ হল নবী কারীম (সাঃ)"। [তাফসীর রুহুল মা’আনী ১১তম খন্ড, পৃঃ ১৮৩] তাছাড়া দয়াল রাসূল (সাঃ) যে জগতের জন্য সবচেয়ে বড় রহমত এই সম্পর্কে পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ্‌ ঘোষণা করেছেন, “হে রাসূল! আমি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টি জগতের রহমত হিসেবে প্রেরন করেছি।“ [সুরা আম্বিয়াঃ ১০৭] সুতরাং, জগতের সবচেয়ে বড় রহমত হিসেবে আমাদের দয়াল রাসূল (সাঃ) এর এই দুনিয়ায় আগমনের দিনে যদি আনন্দ প্রকাশ না করি তাহলে আর কবে আনন্দ করবো? এরপরেও কি এ কথা বলার কোন সুযোগ আছে যে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) পালনের কথা কোরআনে নেই?

কট্টরপন্থী আলেমরা সবসময় এই যুক্তি দেয়ার চেষ্টা করে যে “ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ)” এর কথা কোরআন হাদীসে কোথাও নেই। কোরআন-হাদীস এক বিশাল জ্ঞান ভাণ্ডার। যুগে যুগে অসংখ্য আলেম এই কোরআন নিয়ে গবেষণা করেছেন, অসংখ্য তফসীর লেখা হয়েছে। এইসব তফসীর থেকে এমন সব তথ্য বেড়িয়ে এসেছে যা শুধু লাইন বাই লাইন পড়ে গেলে কখনও সেই অর্থ বোঝা সম্ভব না। ইসলামের অনেক কিছুকেই ইদানিং বেদআত আর হারামের খাতায় ফেলে দেয়ার ক্ষেত্রে “কোরআন-হাদীসে নেই” এই বুলি আওড়ানো হচ্ছে। কোরআন-হাদীসে কিছু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবে নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে এটা করা যাবে আর এটা করা যাবেনা। কিছু বিষয় আছে যার সম্পর্কে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজনিয়তা আছে যা কোরানের বিভিন্ন তফসীর গ্রন্থ পড়ে আমরা জানতে পারি।শুধু লাইন বাই লাইন পড়ে গেলে তার প্রকৃত অর্থ বোঝা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন। আর যে সব বিষয়ে কোন উল্লেখ নেই সে ক্ষেত্রে দেখতে হবে যে কোরআন-হাদীস এর কোন আয়াত কি উক্ত বিষয়ের সাথে সাঙ্ঘরশিক কিনা। যদি সাঙ্ঘরশিক না হয় তাহলে তা বেদাত-হারাম ঘোষণা দেয়ার আগে ১০ বার চিন্তা করা উচিৎ। কারণ “কোরআন-হাদীসে নেই”- এই কথার মাধ্যমে এটাই বোঝায় যে কোরআন-হাদীসে বিষয়টি নিষেধ করা হয়েছে। আর আমদের সমাজের কতিপয় আলেম কৌশলে “ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ)” সম্পর্কে এই মিথ্যাচারটিই করে আসছে। কারণ যে যুক্তিতে ওই অন্ধ আলেম সমাজ “ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ)” কে বেদআত এর খাতায় ফেলে দিয়েছে সেই যুক্তিটিকে ভুল প্রমাণ করেই ইসলামের অনেক-কিছুই সেই খোলাফায়ে রাশেদার যুগ থেকে ইসলামে সুপ্রতিষ্ঠিত। যেমন, রমজান মাসে জামাতের সাথে ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ এর নিয়ম ওমর (রাঃ) এর সময় থেকে চালু হয় যা রাসুল (রাঃ) এর জামানায় ছিলোনা। পবিত্র কোরআনকে বই আকারে সংকলিত করা ও একে ৩০ পাড়ায় বিভক্ত করা হয়েছে খোলাফায়ে রাশিদার যুগে। শুক্রবার জুম’আর নামাজের সময় সানী আজান (খুতবার আগে) এর প্রচলন করা হয়েছিল হযরত ওসমান(রাঃ) এর জামানায় যা রাসূল (সাঃ) এর জামানায় ছিলোনা। হাদীস সঙ্কলন শুরু করা হয়েছিল রাসূল (সাঃ) এর ওফাতের প্রায় ১০০ বছর পর। এবার বর্তমান যুগের কথায় আসা যাক। আজান দেয়া হয় মাইক ব্যবহার করে যা রাসূল (সাঃ) এর জামানায় ছিলোনা। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ইসলামিক স্কলাররা ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন যা শুনে আমরা ইসলামের অনেক গুরুত্তপূর্ণ বিষয়ে জানতে পারি। অর্থাৎ এটাকে ইসলাম প্রচারের একটা ডিজিটাল ফরম্যাট বলা যেতে পারে। রাসূল (সাঃ) এর জামানায় তাকে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্ম প্রচার করতে হয়েছে। এখন আমরা যদি বেদআত এর দলিল কে এভাবে অপব্যবহার করি তাহলেতো এই সবকিছুই বেদআত। অনেকে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর বিরোধিতা করে প্রায়ই এই হাদীস কে দলিল হিসেবে দাড় করায়। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে আমাদের এ ধর্মে এমন কোন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করবে যা ধর্মে অন্তর্ভুক্ত ছিল না তা প্রত্যাখ্যাত হবে”।-[বুখারী ও মুসলিম]। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেছেন, “আমাদের এ ধর্মে যে নতুন কোন বিষয় প্রচলন করবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।”-[বুখারী ও মুসলিম] উপরের যে বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার একটাও রাসূল (সাঃ) এর জীবদ্দশায় ইসলামে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া সত্তেও তা বেদআত হিসেবে গৃহীত হচ্ছেনা। সুতরাং খুব পরিষ্কার ভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে হাদীসে “নতুন বিষয়” বলতে সেই বিষয়কে বোঝান হয়েছে যা সম্পূর্ণ রুপে কোরআন-হাদীস বিরোধী। উধাহরন স্বরূপ বাদশাহ আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহীর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।দ্বীনে ইলাহী এই ধর্মের নাম ইসলামের অনুরুপ বা মুসলিম ভাবধারার সাথে সামঞ্জস্য থাকলেও দ্বীনে ইলাহী ছিল মূলত ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পারশিকদের সমন্বয়ে একটি সংকর ধর্ম। দ্বীনে ইলাহী ধর্মের অনুসারীরা বলত লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আকবারু খলিফাতুল্লাহ।ঈদ-এ-মিলাদুন্নবীর ইঙ্গিত কোরআন-হাদীসে সুস্পষ্ট।একে বেদআত হিসেবে চালানোর কোন কারন-ই নাই।সুতরাং রাসুল (সাঃ) যে দিনটিতে এই পৃথিবীর বুকে আগমন করেছিলেন সেই দিনটিতে যদি তার আশেকরা খুশী হয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের আনন্দে সামিল হয় সেক্ষেত্রে যারা ইসলাম রক্ষার আজুহাতে অযথা বিতর্কে জড়াচ্ছে তাদের মধ্যে রাসুল (সাঃ) এর প্রেম কতটুকু? কোরআন-হাদীস এর কোন কথা কোন প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করতে হবে এই বিচার-বুদ্ধিটুকু যদি না থাকে তাহলে শুধু মীলাদুন্নবী কেন আরও অনেক বিষয়েই বিতর্ক অনিবার্য। আর যারা বলে যে এই দিন রাসুল (সাঃ) এর ওফাত দিবস-ও বটে তাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে এই তথ্যটি ঐতিহাসিক ভুল। রাসূল (সাঃ) এর ওফাত দিবস ১লা রবিউল আওয়াল। 


ঈদে মিলাদুন্নবী শরীয়তের দুই ঈদের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কেননা ঐ দুই ঈদের পৃথক পৃথক দুটি নাম রয়েছে। শরীয়তের এই দু’টি ঈদ পালনের সাথে ইবাদত শর্ত। সুনির্দিস্ট ইবাদতের মাধ্যমে এই ঈদ দুইটি পালন করা হয়ে থাকে। যেমন, ঈদুল ফিতর আনন্দ উৎসবের কারণ হোল আল্লাহর বান্দা দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা তথা রোযা পালন করার পর ঈদুল ফিতরের দিন তার পুরস্কার লাভ করে । রমজান মাসের রোযাদারকে আল্লাহ পাক ঈদুল ফিতরের দিন নিষ্পাপ ঘোষণা করেন। এই নিষ্পাপ ঘোষণাটাই বান্দার জন্য খুশীর দিন, ঈদের দিন। আর ঈদুল আযহার দিন বান্দা পশু কুরবানীর মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে থাকে। আর আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভ করা একটা খুশীর বিষয়, আনন্দের বিষয়। তাই একে ঈদুল আযহা বলা হয়। আমরা এই ২টি ঈদ পালন করি এবাদতের অংশ হিসেবে। কিন্তু ঈদ- এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর সাথে কোন এবাদত শর্ত হিসেবে জুড়ে দেয়া হয়নি। বরং রাসূল (সাঃ) এর দুনিয়াতে আগমনের এই দিনটিতে যদি আমরা খুশী থাকি, পরিবারের সবাইকে নিয়ে সেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই তাহলে কি আল্লাহ ও তার রাসূলের বেজাড় হবার কি কোন কারণ আছে? অনেকে আবার মধ্য পন্থা অবলম্বন করে। তারা সরাসরি ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর বিরোধিতা করেনা কিন্তু কৌশলে এটা বলে যে কোরআন-সুণ্ণাহ সঠিক ভাবে মেনে চলাই রাসূল (সাঃ) এর প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। আমিও সে কথার সাথে ১০০% একমত। কিন্তু এটাতো ৩৬৫ দিনের জন্যই প্রযোজ্য। এটা তো শুধু ঐ ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর ১ দিনের জন্য প্রযোজ্য না। আর অনুষ্ঠানটার নাম ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ), সুতরাং কোরআন–সুণ্ণাহ মানার পাশাপাশি আর ২টা ঈদের মত পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইদের দিনের মতই আনন্দ উদযাপন করলেই না ঈদ পালন করা হবে।একজন মুসলিম যে নামাজ-রোজা সহ শরীয়তের সব কিছুই ঠিক মত পালন করে। সে যদি রাসূল (সাঃ) এর পৃথিবীতে আগমনের এই শুভদিনে মন থেকে খুসি হয়, আর ২টি ঈদের দিনের মতই বাড়ীতে ভাল কিছু রান্না করে, পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের নতুন জামাকাপড় কিনে দেয়, ঈদ এর শুভেচ্ছা আদান-প্রদান করে, পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় তাহলে বেদআত হিসেবে তার সমস্ত এবাদত পণ্ড হয়ে যাবে এই ধরনের অযৌক্তিক ফতোয়াবাজী অচিরেই বন্ধ হওয়া উচিৎ। সমাজের কিতাব সর্বস্ব কিছু মানুষ আছে যারা আল্লাহ-রাসুলের প্রেমের কথা বল্লেও প্রেম কি জিনিস সেই ব্যাপারে কোন ধারনাই নেই, তারাই মূলত এই অপ-প্রচার চালাচ্ছে। এই দলের কাছে নামাজ- রোজা যতটা না গুরুত্ব পায় রাসুলের প্রেম ততটা পায়না। কিন্তু যার ভিতর রাসূলের প্রেম যতটুকু তার ঈমান ততটুকু। সুতরাং এই ঈমানের ভিত্তি মজবুত না করে কোরআন- সুন্নাহর বুলি আওরালে আর কি লাভ? আবু লাহাবের মতো একজন কাফের নিজের অজান্তেই রাসূল (সাঃ) এর প্রতি ভালবাসা দেখিয়েছিল বলে আল্লাহ্‌ তাকে তততুকুই প্রতিদান দিয়েছিলেন। আল্লামা ইবনে হাজার আস্কালানি (রহঃ) তার ফাতহুল বারীর ৯ম খণ্ডে বর্ণনা করেছেন হযরত সুহাইলি (রাঃ) কর্তৃক হযরত হযরত আব্বাস (রাঃ) থেকে এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “তিনি বলেন, আবু লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর তাকে স্বপ্ন দেখি যে সে অত্যন্ত আযাবের মধ্যে আছে।” তার নিজের অবস্থা সম্পর্কে আবু লাহাব জানায় “তোমাদের ছেড়ে আসার পর থেকে আমি শান্তির মুখ দেখিনি। তবে প্রতি সোমবার আমার আযাব লাঘব করা হয়।” হযরত আব্বাস (রাঃ) বলেন, “তার এই আযাব লাঘবের কারণ হল হযরত রাসূল (সাঃ) এর জন্মদিন ছিল সোমবার। রাসূল (সাঃ) এর জন্মের শুভ সংবাদ নিয়ে আসায় সে তার দাসী সুয়াইবাকে খুশি হয়ে মুক্তি দিয়েছিল।” যে আবু লাহাব সারাজিবন আমাদের দয়াল রাসুল (সাঃ) এর বিরধিতা করে গেলো এবং যে ছিল একজন কাফের শুধুমাত্র রাসূল (সাঃ) এর জন্মের সংবাদে খুশি হওয়ার কারনে আল্লাহ্‌ প্রতি সোমবার তার আযাব লাঘব করেন। আমরাও যদি রাসুল (সাঃ) এর জন্মের এই শুভ দিনটিতে খুশি হতে পারি এবং অন্য ২টি ঈদ এর মতই পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রকৃত ঈদ এর আনন্দ উদযাপন করতে পারি তাহলে নিঃসন্দেহে তা পরকালে আমাদের মুক্তির ওসিলা হিসেবে কাজ করবে।


Eid Miladun Nabi

#ঈদমিলাদুন্নবীকি? #কোরআনহাদীসেরআলোকেঈদমিলাদুন্নবীসম্পর্কেধারনা। 

 #ঈদমিলাদুন্নবীউপলক্ষেকিকিকরাযেতে_পারে!  

#ঈদমিলাদুন্নবীপালনকরাকিবেদাতপাপ।  #ঈদমিলাদুন্নবীপালনকরবেনকেন? 

#ঈদমিলাদুন্নবীপালনেরগুরুত্বও_প্রয়োজনীয়তা। 


      *দোয়া করে কেউ বাজে মন্তব্য করবেন না যার ইচ্ছে করবেন যা না হয় চুপ থাকবেন কেমন, অযথা মন্তব্য করে নিজের পাণ্ডিত্যের পরিচয় দেবেন না, কারণ আমি কোনো ইসলামিক বক্তা বা কোনো ইসলামিক ছাত্র ও না, তবে প্রদত্ত তথ্য গুলি আমি সংগ্রহে করে কিছু বিজ্ঞ আলেমের সহায়তায়, মুসলিম জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করলাম। collected and analysed by #draabdussalaam #PirNabilAshraf_UttarPradesh  #MuftiMdIbrahim_Bangladesh

 


#ঈদেমিলাদুন্নবিঅনুষ্ঠানের_প্রজন্ম:-  ষষ্ঠ হিজরী কিংবা সপ্তম হিজরীতে প্রথমবারের মত এ বিদআতটি চালু করেন আর্বিলের বাদশা আবু সাঈদ (সাঈদের পিতা) আল-মুজাফফর কুকবুরি; যেমনটি উল্লেখ করেছেন ইতিহাসবিদ ইবনে কাছির ও ইবনে খাল্লিকান প্রমুখ। ১২ই রবিউল আউয়াল নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) এর জন্মদিন হিসাবে “ঈদে মিলাদুন্নবী” পালন করে থাকে।

আবু শামা বলেন: মোসুলে প্রথমবারের মত এ বিদআতটি পালন করেন একজন মশহুর দ্বীনদার মানুষ- শাইখ উমর বিন মুহাম্মদ আল-মোল্লা। এরপর আর্বিলের বাদশা ও অন্যরা তাকে অনুসরণ করেন। 


#ঈদেমিলাদুন্নবিঅর্থ:- ঈদ শব্দের আভিধানিক অর্থ হল খুশী হওয়া, ফিরে আসা, আনন্দ উৎযাপন করা ইত্যাদি। আর মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে আমরা নবীজীর আগমনকে বুঝায়। আর ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে নবীজীর আগমনে খুশী উৎযাপন করাকে বুঝায়। সুতরাং অশান্তি আর বর্বরতায় ভরপুর সংঘাতময় আরবের বুকে আধারের বুক চিড়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শান্তি নিয়ে এসে মানবজাতিকে সত্যের, সভ্যতা ও ন্যায়ের দিক নির্দেশনা দিয়ে গোটা বিশ্বকে শান্তিতে পরিপূর্ণ করে তুলেন। নবীজীর পবিত্র শুভাগমনে খুশী উৎযাপন করাটাই হচ্ছে ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। 


#ঈদেমিলাদুন্নবীপালনকরারউপকারিতা:- ঈদে মিলাদুন্নবী এর উপকারিতা সম্পর্কে জুরকানী শরীফে রয়েছে, যা আবু লাহাব সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। যেমন-

অর্থাৎ- হযরত ছুয়ায়লি (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, হযরত আব্বাস (রাঃ) এরশাদ করেন যে, যখন আবু লাহাব মারা যায় তার এক বছর পর আমি তাকে স্বপ্নে দেখি যে, সে বড়ই খারাপ অবস্থায় আছে এবং সে বলছিল, তোমাদের কাছ থেকে আসার পর আমার কোনো শান্তি নসীব হয়নি। হঁ্যা এতটুকু অবশ্যই যে, প্রত্যেক সোমবার আমার আযাব হালকা করে দেয়া হয়। তা শুনে হযরত আব্বাস (রাঃ) বললেন, এটি এ জন্যই যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার দিন দুনিয়াতে তাশরীফ এনেছেন। আর ছোয়াইবা নামী জনৈকা ক্রীতদাসী তাকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার আগমনের শুভ সংবাদ দিয়েছিল বিধায় সন্তুষ্টি চিত্তে আবু লাহাব তাকে আজাদ করে দিয়েছিল।

সূত্রঃ (ফাতহুল বারি ৯ম খন্ড ১১৮ পৃষ্ঠা, জুরকানী শরীফ ১ম খন্ড ২৬০ পৃষ্ঠা) হাদীসখানা আল্লামা বদরুদ্দিন আঈনি ও তার ওমদাতুল কারী শরহে ছহীহ বুখারীতে ২য় খন্ডের ২৯৯ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। 


#ঈদেমিলাদুন্নবিউপলক্ষেআমাদেরকিআমলকরা_উচিত:- রাসুল (সা.) কে আল্লাহ বলছেন ‘বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার রাসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে তাকে ভালোবাস।’ এজন্য রাসুলের (সা.) প্রতি আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করে আমরা আমল করব। যেমন ফরজ নামাজ পড়ার পাশাপাশি বেশি বেশি সুন্নত ও নফল নামাজ আদায় করা, রোজা রাখা, কোরআন শরীফ তেলাওয়াত, জুলুস বের করা তবে কোনো বাদ্য যন্ত্র বাজানো, DJ বাজানো, গান বা সঙ্গীতের মত কাওয়ালি বাজানো যাবে না, জলসা মাহফিল করা এবং গরিব মানুষ কে খাওয়ানো।


 

#আধুনিকতারআলোকেঈদে_মিলাদুন্নবি:- বিশ্বে এখন প্রায় মানুষের ঈমানেকে নবীর প্রেম থেকে বঞ্চিত করার জন্য নবীর মিলাদ নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় কিছু আলেম নামের মুর্খ লোক রয়েছেন। তারা বলে নবীজী নুরের নয় আবার তার মিলাদুন্নবী জায়েজ নাই। আমার প্রশ্ন মিলাদ বা জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে তার জীবনী সিরাত সুরাত নিয়ে আলোচনা যদি নাই করা যাবে তাহলে ইসলাম প্রচার প্রসার করবো কি করে। আমরা মিলাদুন্নবী পালন করি কি কোন নির্দিষ্ট এক দিনে ? কোন নির্দিষ্ট একদিন হিসাব করে মিলাদুন্নবী পালন করলে এটাকে না জায়েজ বলা যেতো যে রাসূল শুধু একদিনের জন্য নির্দিষ্ট নয় বরং সারা বছর ই আমরা ইদ ই মিলাদুন্নবী পালন করি। বিশেষ করে রবিউল আউয়াল মাসে। কেননা এ মাসে তিনি এই পৃথিবীতে আগমন করেছেন। তাই গ্রাম গঞ্জ এর আনাচে কানাচে যারা নবীর বা ইসলাম সম্পর্কে ধারনা রাখেনা বা অনেকের ইসলামী শিক্ষা নাই এই সমস্ত লোকজন ঈমানকে মজবুদ করার জন্য বা ইসলামকে ভালবেসে ইসলামের কিছু কথা শুনে আল্লাহ ওয়ালা ও নবীর আশেক হতে পারে তাই উদ্দেশ্য করে ঈদ ই মিলাদুন্নবীর আয়োজন করা হয়। অনেকে বলে এটা বিদয়াত কারন নবী ও তার সাহাবীরা এই মিলাদুন্নবী করেন নাই। সুন্দর কথা নবীর জীবনী তার জীবদ্দশায় আলোচনা করা হবে কি করে তখন তো তিনি নিজেই মানুষদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন। আর সাহাবীরা তাই করেছেন যা আল্লাহর রাসূল করেছেন। আর কোন বিখ্যাত ব্যক্তির জীবনী তার জীবদ্দশায় করা হয় না। যেমন আমাদের দেশেরে রাজনীতিতে শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান এমন করে লেখক ও সাহিত্যিকদের মৃত্যুর পরে তাদের জীবনী নিয়ে অনেক আলোচনা হয় যা আজও চলমান। আর আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাঃ হলেন পৃথিবীর বুকে সব চাইতে শ্রেষ্ঠ মানব। এমনকি আল্লাহ তায়ালার সবচেয়ে প্রিয় ছিলেন যার শানে আল্লাহ নিজে ও ফেরেশতারা দুরুদ পাঠ করেছেন এবং ইমানদারদেরেকে ও পাঠ করার জন্য বলেছেন। তাহলে তার মরতবা কত দূর। সুতারাং যারা ঈদ ই মিলাদুন্নবী করেন তাদের আয়োজনে কুরআন তেলাওয়াত করা হয়, দূরুদ ও সালাম পেশ করা হয়। এখানে কোন শরীয়ত বিরোধী কাজতো হচ্ছে না।এটা বিদয়াত হলে তা হাসানাহ আবার কেউ কেউ বিদয়াতে হাসানাও মানতে রাজী নন তাহলে তারাবিহের নামাজ কি ? তাদের কাছে প্রশ্ন কেউ কেউ বলেন এটা বিদয়াত আর সব বিদয়াত ই জান্নামী তাহলে ইসলাম প্রচার করার বরতমান যে পদ্ধতি চালু রয়েছে যেমন মাদরাসায় পড়া, দাখিল, আলিম, ফাযিল, কামিল. দাওরা হাদিস যে পড়ানো হয় এটা দ্বীনি কাজ আর দ্বীনের মধ্যে এ ধরনের কাজ রাসূলে যুগে ছিল না। হজ্জ করতে যাওয়ার জন্য প্রেন ছিল না তাহলে বর্তমানের যে বিজ্ঞানের আবিস্কার তা ছিল না তাহলে এ সব কিছুই জাহান্নামী হয়ে যায় কারন এগুলো বিদয়াত আবার দেখি আরবী শেখার জন্য আরবী গ্রামারে এটা রাসূলের যুগে ছিল না তাহলে যারা এই কাজ করেন তাহলে তারাকি ঠিক করছেন। তাই ভাইদের কাছে আমার প্রশ্ন নবীর জীবনী আলোচনা তার স্বরণ করা তার সানে দুরুদ পাঠ ও দোয়া অনুষ্ঠান করা আপনার কাছে বিদায়াত মনে হয় তাহলে ইন্জিন চালিত গাড়ী, লঞ্চ এ জাতীয় অনেক নতুন আবিস্কার, তা ছাড়া আপনি যে ইউটিউব এর মাধ্যমে আমাদের জানালেন তা ও নুতন আবিস্কার এর মাধ্যমে বললেন এটাতো বিদায়াত। এটা জাহান্নামী কাজ করলেন তাহলে এটা কি হলো। ইসলামটাকে বাড়াবাড়ি করে আমাদের ঈমানটাকে নষ্ট করবেন না। দয়া করে অল্প ইলম অজন করে নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবেন না। যারা নেক কাজ করে ইসলামকে ভালবাসে তাদের সাথে তাদের মনটাকে ভেঙ্গে দেবেন না প্লিজ। দোয়া দুরুদ এগুলো ভাল কাজ। হে আপনি একটু এভাবে বলতে পারেন যে, আপনারা বেয়াদবীর সাথে ঈদ ই মিলাদুন্নবী পালন থেকে বিরত থাকুন। সেটা হলো নারী পুরুষ এক সাথে নয় পর্দা বাজায় রেখে পালন করুন। মিছিল মিটিং নয় বরং কিছু মানুষ দাওয়াত করে মাহফিল অথবা দোয়ার মাধ্যমে পালন করুন। ভাই সমাজে বিশৃংখলা সৃস্টি করা কি ঠিক। কোন কাজ হারাম বলার আগে তার কুরআনের ও হাদীসের দলিল প্রয়োজন। ঈদ এ মিলাদুন্নবীর ব্যাপারে কুরআনে বলা হয়ছে قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَ بِرَحْمَتِهِ فَبِذَالِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَا خَىْرٌ مِمَّا ىَجْمَعُوْنَ আর্থাৎ- “হে রাসুল আপনি বলুন আল্লাহর “অনুগ্রহ” ও “রহমত” প্রাপ্তিতে তাঁদের মুমিনদের খুশি উদযাপন করা উচিত এবং এটা হবে তাদের অর্জিত সকল কর্মফলের চেয়েও শ্রেষ্ট” তাহলে আল্লাহর রাসূল পৃথিবীতে আসলেন। অন্ধকার দূর করলেন আমরা ইসলমামের সুশিতল ছায়া তলে আশ্রয় নিলাম এটা কি আনন্দের নয়।আপনি বললেন ফরজ 2 রাকাতের চয়ে 4 রাকাত করার কথা মানুষ এতটা নির্বোধ বোকা হয়নি। ঈদ এ মিলাদুন্নবী ফরজ, সুন্নাত,ওয়াজিব নয় বরং মুস্তাহাসান বা নেক আমল করার জন্য পালন করা হয়। এখানে কোন গান, বাদ্য, বাজনা যা ইসলাম নিষেধ করেছেন এমন কোন কাজ করা হয় না। সুতারাং এটা কোন একদিন কে নির্দিষ্ট করে ঈদ এ মিলাদুন্নবী পালন করা বা জন্ম দিন পালন করা হয় না বরং এটা পুরো রবিউল আউয়াল মাসেই পালন করা হয় মানুষেরে মাঝে ইসলামকে স্বরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য। দেশের সবাইতো শিক্ষিত মানুষ নয় অনেক গ্রাম গঞ্জের মানুষ এর মাধ্যমে ইসলামকে বুঝতে পার। আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আমরা পৃথিবীর সমস্ত মুসলমানকে ভালবাসি। তবে হকের উপর যারা রয়েছেন তাদের পক্ষে কেননা কুরআনে নিষেধ করেছেন মাজার পুজা করতে সেজদা করতে কিন্তু যারা এমন আরো যা কাজ রয়েছে তাদের পক্ষে নয়। আল্লাহ আমাদেরকে সহি বুঝ দান করুন। আর সর্বাবস্থায় আবদুল্লাহ ইবনে উবাই অর্থাত মুনাফিকদের মত না হওয়ার তৌফিক দান করুন। কেননা মুনাফিকরাই সব সময় ঈমানকে নষ্ট করেছেন। সকলের কাছে আমার আবেদন আসুন আল্লাহর রাসূলের আদর্শে আদরশীত হয়ে তার শানে দুরুদ পাঠ করি এবং তার জীবনী পর্যালোচনা করে গেটে সেই অনুযায়ী আমল করার তৌফিক আল্লাহ আমাদেরকে দান করুন -----আমিন।


 

#ঈদেমিলাদুন্নবিপালনকরাযাবেনাকেন:- ১২ই রবিউল আউয়াল নবী মুহাম্মাদ(ﷺ) এর জন্মদিন হিসাবে “ঈদে মিলাদুন্নবী” পালন করে থাকে। 

যে ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক আমার নামে মিথ্যা হাদিস রটনা করে, সে জাহান্নামে তার ঘর তৈরী করুক’।[সহীহ বুখারী ১১০]

 '‘তোমরা আমাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, যেভাবে খ্রিষ্টানগণ ঈসা(আ) সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করেছে।... বরং তোমরা বল যে, আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।’’

[সহীহ বুখারী ৩৪৪৫] 

আমাদের এ ধর্মে যে নতুন বিষয় প্রচলন করবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।- বুখারী ও মুসলিম শরীফ

সাবধান ধর্মে প্রবর্তিত নতুন বিষয় থেকে দূরে থাকবে। কারণ নতুন চালু করা প্রতিটি বিষয় হলো বেদাত আর বেদাত হল পথভ্রষ্টতা।- আবুদাউদ, তিরমিজি, ইবনেমাযা ও আহমদ শরীফ।

ঈদে মিলাদুন্নবী হল খ্রিস্টানদের বড়দিন, হিন্দুদের জন্মাষ্টমী আর বৌদ্ধদের বৌদপূর্নিমার মতো। কেননা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুসরণ করবে সেই ব্যক্তি তাদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। 

শুনে রাখো, হাউজে কাউসারের কাছে তোমাদের সাথে আমার দেখা হবে। তোমাদের সংখ্যার আধিক্য নিয়ে আমি আনন্দিত হবো। সেই দিন তোমরা আমার চেহরা মলিন করে দিও না। জেনে রাখো, আমি সেইদিন অনেক মানুষকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা চালাব। তখন তাদের মধ্যে অনেককে আমার কাছে থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া হবে। আমি তখন বলবো হে আমার পালনকর্তা, প্রতিপালক তারা তো আমার প্রিয় সাথী সঙ্গী, আমার অনুসারী; কেনইবা তাদের আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন? আল্লাহ্ উত্তরে বলবেন- হে নবী আপনি জানেন না, আপনার পরলোক গমনের পর(মারা যাওয়ার পর) তারা ধর্মের মধ্যে নতুন বিষয় প্রচলন করেছিল। 


#কুরআনঈদেমিলাদুন্নবী:- আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন বলেন-

অর্থাৎ- আল্লাহ বলেন, হে প্রিয় রাসূল! আপনি স্মরণ করুন ঐ দিনের ঘটনা”- (রোজে আজলের সময়ের) যখন আমি (আল্লাহ) আম্বিয়ায়ে কেরামগণের নিকট থেকে এইভাবে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, যখন ‘আমি তোমাদেরকে কিতাব এবং হিকমত’ অর্থাৎ নবুয়ত দান করবো, অতঃপর তোমাদের কাছে এক মহান রাসূলের শুভাগমন হবে- যিনি তোমাদের প্রত্যেকের নবুয়তের সত্যায়ন করবেন, তখন তোমরা সকলে অবশ্যই তাঁর উপর ঈমান আনযন করবে এবং সর্বোত্তমভাবে তাঁকে সাহায্য সহযোগিতা করবে। তোমরা কি এ কথার অঙ্গীকার করছো এবং অঙ্গীকারে কি অটল থাকবে? সমস্ত নবীগণ বললেন- হাঁ, আমরা অঙ্গীকার করলাম। আল্লাহ তায়ালা বললেন- তোমরা পরস্পর স্বাক্ষী থেকো এবং আমি ও তোমাদের সাথে স্বাক্ষী রইলাম। এর পরেও যে কেউ পিছপা হয়ে যাবে- তারা হবে ফাসেক।

সূত্রঃ তৃতীয় পারা, সূরা আল-ইমরান ৮১-৮২ নং আয়াত।

এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো (১) আয়াতের ইবারাতুন নস-এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, অন্যান্য নবীগণ থেকে আল্লাহ তায়ালা অঙ্গীকার আদায় করেছিলেন। (২) দালালাতুন নস- এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, সমস্ত নবীগণ সেদিন মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। (৩) ইশারাতুন নস- এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, মূলত ঐ মাহফিলটি নবীজীর আগমনী বা মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর মাহফিল ছিল। (৪) ইক্বতেজাউন নস- এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ঐ সময় সমস্ত নবীগণ কি্বয়াম অবস্থায় ছিলেন। কারণ ঐ দরবারে বসার কোন অবকাশ নেই এবং পরিবেশটিও ছিল আদবের।

আরো লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে- এই আয়াতে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্থাৎ নবীজীর আগমন সম্পর্কে রোজ আজলের মধ্যে সমস্ত নবীগণকে উপস্থিত রেখে আলোচনা করেছেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন প্রিয় আল্লাহর রাসূল, তাঁর সাথে মানুষের তুলনা হবেতো দূরের কথা, অন্য কোনো নবীর ও তুলনা হয়না। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা সমস্ত নবীদের নিকট দুটি হুশিয়ারী বাণী প্রদান করেছেন। যথা- (১) আমার বন্ধুর উপর ঈমান আনতে হবে। (২) আমার বন্ধুকে সর্বোত্তমভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে।

মানুষ যখন কোনো নেয়ামত ও রহমত প্রাপ্ত হয় তখন তার জন্য আনন্দ উৎসব করা তার স্বভাবগত কাজ, আর আল্লাহর নির্দেশও তাই। যেমন- পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন-

অর্থাৎ- হে মানবকুল তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং অন্তর সমূহের বিশুদ্ধতা, হেদায়াত এবং রহমত ঈমানদারদের জন্য। হে হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি বলুন! আল্লাহরই অনুগ্রহ ও তাঁর দয়া প্রাপ্তিতে তারা যেন আনন্দ প্রকাশ করে। এটা তাদের সমস্ত ধন দৌলত সঞ্চয় করা অপেক্ষা শ্রেয়। (সূরা ইউনুছ, আয়াত নং- ৫৭-৫৮)।

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম জালাল উদ্দিন সুয়ূতী (রহঃ) তাঁর তাফসীর গ্রন্থ আদ দুররুল মুনছুর এ উল্লেখ করেন-

অর্থাৎ- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন এখানে আল্লাহর অনুগ্রহ (ফাদ্বলুল্লাহ) দ্বারা ইলমে দ্বীন বুঝানো হয়েছে আর (রহমত) দ্বারা সরকারে দু’আলম নূরে মোজাচ্ছম আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। যেমন- আল্লাহ তায়ালা বলেন, (ওয়ামা আরসালনাকা ইল্লা রাহমাতালি্লল আলামীন) অর্থাৎ হে হাবীব আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত করেই প্রেরণ করেছি।

সূত্রঃ সূরা আম্বিয়া আয়াত নং- ১০৭, তাফসীরে রুহুল মায়ানী, তাফসীরে কবির ও ইমাম সূয়ূতী (রহঃ) কৃত তাফসীরই আদ দুররুল মুনছুর, ৪র্থ খন্ড- ৩৬ পৃষ্ঠায় ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

সামান্য জাগতিক নিয়ামত লাভ করলে তজ্জন্য ঈদ উৎসব করার সরাসরি উদাহরণ আমরা পবিত্র কুরআন মাজীদে দেখতে পাই। যেমন-

অর্থাৎ- মরিয়ম তনয ঈসা (আঃ) আরয করলেন, হে আল্লাহ! হে আমাদের রব, আমাদের উপর আকাশ থেকে একটা খাদ্য খাঞ্চা অবতরণ করুন যা আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী সকলের জন্য ঈদ হবে এবং আপনারই নিদর্শন হবে, সুতরাং আমাদেরকে রিযিক দান করুন। আর আপনিইতো হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ রিযিক দাতা। (সূরা মায়েদা, আয়াত নং- ১১৪)।

এ আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে খাঞ্চাভরা খাদ্য আসলে তা যদি হযরত ঈসা (আঃ)-এর ভাষায় পূর্ব ও পরবর্তী সকলের জন্য আনন্দ, উৎসবের কারণ ও আল্লাহর নিদর্শন হয়, তাহলে সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম সত্ত্বা, রহমতের ভান্ডার, প্রিয় নবী আকাও মাওলা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার মত মহান নিয়ামতের শুভাগমনের দিন কতইনা মর্যাদাবান, গুরুত্বপূর্ণও আনন্দের দিন বা মাস তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে পবিত্র ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিল কি-না?

আল্লামা শাহাবুদ্দীন ইবনে হাজর হায়তামী (রহঃ) বলেন, খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালন করার নীতি প্রচলন ছিল। যেমন-

অর্থাৎ- হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করার জন্য এক দিরহাম অর্থ খরচ করবে, সে ব্যক্তি বেহেশ্তে আমার সাথী হবে”। হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাজীম ও সম্মান করলো, সে যেন ইসলামকেই জীবিত রাখলো”। হযরত ওসমান (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করার জন্য এক দিরহাম অর্থ খরচ করলো, সে যেন বদর ও হোনাইনের যুদ্ধে শরীক হলো”। হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন- “যে ব্যক্তি ‘মিলাদুন্নবী’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করবে এবং মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করার উদ্যোক্তা হবে, সে দুনিয়া থেকে (তওবার মাধ্যমে) ঈমানের সাথে বিদায় হবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে”। সূত্রঃ আন নে’মাতুল কোবরা আলাল ফি মাওলিদি সাইয়্যেদ ওলদে আদম ৭-৮ পৃষ্ঠা। 

মহান আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফে ইরশাদ ফরমান- “হে মানবকুল! তোমাদের কাছে উপদেশ বাণী এসেছে, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের ব্যাধির নিরাময়, হিদায়েত ও রহমাত মুসলমানদের জন্য। হে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম আপনি বলুন, আল্লাহ’র অনুগ্রহ এবং তাঁর দয়ায় সুতরাং এতে তারা আনন্দিত হওয়া উচিত। এটিই উত্তম সে সমুদয় থেকে যা তাঁরা সঞ্চয় করেছে। (সুরা ইউনুস : ৫৭-৫৮)

অত্র আয়াতে কারিমায় ‘হিদায়েত ও রহমাত’ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। এবং এটি সমস্ত আমলের চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে। এখন বিচার এই যে, ‘হিদায়েত ও রহমাত’ দ্বারা উদ্দেশ্য কি? এ সম্পর্কে বিশ্ব বিখ্যাত ‘তাফসিরে তাবায়ী’ শরিফের মধ্যে ইমাম  ইবনে জারীর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাছ থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘হেদায়েত’ দ্বারা উদ্দেশ্য ইসলাম আর ‘রহমাত’ দ্বারা উদ্দেশ্য কোরআন।

হাফেজে হাদিস আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতি রাহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহি তার বিশ্বনন্দিত তাফসির ‘আদদুরূল মানসুর’ এর মধ্যে একই সাহাবি থেকে বর্ণনা করেছেন।

‘রুহুল মায়ানি’তে আল্লামা নিসারুদ্দীন মাহমুদ আলুসী রাহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহি এরুপ বর্ণনা করেন। তাফসিরের বর্ণনায় এস্পষ্টভাবে বোঝা যায় তোমরা মহামূল্যবান সম্পদ পেয়েছ এজন্য ঈদ পালন কর বা খুশি উদযাপন কর।

পবিত্র কোরআনের সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নং আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আর আমি আপনাকে জগৎসমূহের জন্য একমাত্র রহমাত হিসেবেই প্রেরণ করেছি। এখানে রহমাত বলতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামকে বলা হয়েছে। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আর তোমরা সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ কর। যা আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে দান করেছেন। (সূরা আল ইমরান : ১০৩) 

আল্লাহ তা’আলা দুনিয়াতে যত নিয়ামত দান করেছেন তার মধ্যে সর্বোত্তম নিয়ামত হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম। এ দুটি আয়াতের আলোচনায় এস্পষ্ট প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম-এর দুনিয়াতে আগমনের দিন আনন্দ উৎসব তথা ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম পালন করা সর্বোত্তম আমল।

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম উদযাপন করা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম-এর আনুগত্যের বহি:প্রকাশ। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন, “তোমরা আল্লাহ’র কথা মান্য কর, রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা সৎশাসক তথা ইমাম, মুজতাহিদ সৎশাসক শরিয়াতের আইনজ্ঞ মাযহাবের ইমামগণ তাদের আনুগত্য কর।”

উপরিউক্ত আলোচনায় আমরা জানতে পারি পবিত্র কোরআনে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আলোচনা রয়েছে। এবং এটাকে উত্তম আমল বলা হয়েছে। সুতরাং এটা আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে মহান ইবাদাতে পরিণত। 


#হাদিসেঈদমিলাদুন্নবী:- প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ও সাহাবায়ে কিরাম রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহুদের যুগেও মিলাদ শরিফ পালিত হয়েছে। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মিলাদ সম্পর্কে প্রায় ২১৮টি হাদিস রয়েছে। এখানে তার কয়েকটি হাদিস আলোকপাত করা হলো।

মুসলিম শরীফের কিতাবুজ যুহুদ ওয়াররকায়েক অধ্যায়ে ৫৩ পৃষ্টায় বর্ণিত আছে, প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মক্কা ত্যাগ করে মদীনা শরীফের প্রান্ত সীমানায় প্রবেশ করলেন তখন নবী প্রেমে আত্মোত্‍সর্গীত সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম) এবং মদীনার শিশু,যুবক,বৃদ্ধ,বণিতা সকলেই প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে প্রাণঢালা সম্বর্ধনা ও অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের জন্য এগিয়ে আসেন।হাদীস শরীফের এরশাদ হয়েছে তখন মদীনার নারী পুরুষ ঘরের ছাদ সমূহের উপর আরোহণ করেন ছোট ছোট ছেলে ও ক্রীতদাসগণ মদীনার অলিতে গলিতে ছড়িয়ে পড়েন,সকলে সমবেত কণ্ঠে “ইয়া মুহাম্মাদ”, “ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)” ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তোলেন।  

সাহাবী আবু কাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, একদিন নবীজী কে সোমবারে রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করা হল। তিনি উত্তরে বললেন- এদিন আমার জন্ম হয়ছে, আর এদিনেই আমার উপর নবুয়াত দেওয়া বা কোরআন শরীফ নাজিল করা হয়েছে।-মুসলিম শরীফ 

তাছাড়া নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর হিজরতের সময় “সানিয়াতুল বিদা” নামক স্থান থেকে সাহাবায়ে আনছারগণ “আল্লাহু আকবার” “ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)” শ্লোগাণ দিয়ে প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছিলেন,প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর জন্মক্ষণে ও মিরাজের ঐতিহাসিক রজনীতে ফেরেস্তাগণ প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর সম্মানার্থে “জশনে জুলুস” বের করেছিলেন এছাড়া হিজরতের প্রাক্কালে মদীনার মুসলমানগণ ঐক্যবদ্ধভাবে রাহমাতুল্লিল আলামীন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে অভ্যর্থনা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে “জাহরুল হারা” নামক স্থানে গমন জশনে জুলুসের এক অভ্রান্ত দলীল এবং সুদৃঢ় ভিত্তি।

(বুখারী শরীফ ১ম খন্ড ১৫৪ পৃষ্ঠা) হাদীসের বর্ণনাতে প্রতি মুহুর্তে সত্তর হাজার নূরানী ফেরেস্তা মদীনা মনোয়ারায় পবিত্র রওজা শরীফের চতুর্দিকে প্রদক্ষিন করছে এবং সালাত ও সালামের সওগাত ও নজরানা পেশ করছে এবং করতে থাকিবে।জশনে জুলুসের বৈধতা প্রমানে এটি ও এক নির্ভরযোগ্য সূত্র।এতে প্রতীয়মান হলো জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম) পালন করা বিদআত নয় বরং সুন্নাতের অন্তর্ভূক্ত এবং সর্বকালের প্রচলিত প্রথাসিদ্ধ সর্বজন গ্রাহ্য পুন্যময় আমল,এর বিরোধীকারীরা গোস্তাখে রাসূল ছাড়া কিছুই নয়।

“হযরত ইবনে আব্বাস রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন, আমি আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে পরস্পরা ধারায় বৈবাহিক সূত্রে মিলনের ফলে মানবরূপে আমার পিতা-মাতা থেকে জন্মলাভ করেছি। ব্যভিচার বা যিনার মাধ্যমে নয়।” (ইবনে সাদ, ইবনে আসাকির, তাবরানী, মাসনাদে ওমর, আবু নাঈম, ইবনে আবি শাইবা, মাসনাদুল ফেরদাউস) 

হযরত আনাস রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম ভাষণে বলেছেন, আমি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মোতালেব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুশাই ইবনে মালেক ইবনে নফর ইবনে কিনানা ইবনে খুযাঅহ  ইবনে মুফরিকা ইবনে ইলিয়াস ইবনে যুফার ইবনে নাযার। যে স্থানে মানুষ দু’দলে বিভক্ত হয়েছে সেখানে আল্লাহতা’আলা আমাকে উত্তম দলে রেখেছেন। আমি আমার পিতা-মাতা থেকে জন্মগ্রহণ করেছি।” “হযরত ইরবাদ্ব ইবনে সারিয়াহ রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন, তখন থেকে আমি আল্লাহ তা’আলার বান্দা এবং নবীকুলের সর্বশেষ নবী, যখন আদম আলাইহি-সসালাওয়াতু ওয়া-সাল্লাম মাটির সঙ্গে মিশ্রিত ছিলেন। আমি তোমাদের আরও জানাচ্ছি যে, আমি হলাম আমার পিতা নবী হযরত ইবরাহিম আলাইহি-সসালাওয়াতুু ওয়া-সাল্লাম-এর দু’আর ফসল এবং নবী হযরত ঈসা আলাইহি-সসালাওয়াতু ওয়া-সাল্লামের সুসংবাদ, আর আমার মাতার স্বপ্ন। নবীদের মাতাগণ এভাবেই স্বপ্ন দেখতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের মাতা তাকে প্রসবের সময় এমন এক নূর প্রকাশ পেতে দেখলেন যার আলোতে সিরিয়ার মহলগুলো দেখা যাচ্ছিল।” (মুসনাদে আহম্মদ, তাবরানী, হাকেম, বায়হাকি, আবু নাঈম)

“হযরত আনাস রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন, আমি আমার রবের নিকট থেকে সম্মানিত যে, আমি খাতনা অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছি। আমার লজ্জাস্থান কেউ দেখেনি।” (তাবারানী আওসাত) “হযরত আবু কাতাদাহ আনসারী খাজরাজি রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের কাছে সোমবার রোজা রাখা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উত্তরে বলেন, এদিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এইদিনে আমার প্রতি নবুয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।” (মুসলিম শরিফ ৩৬৪পৃষ্ঠা, মুসনাদে আবী শাইবা)

#রাসূলনিজেইমিলাদবর্ণনাকরেছেন:- হযরত মুতালেব ইবনে আবু ওয়াদাহ রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আব্বাস রাদি-আল্লাহু তা’আলা আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম সম্পর্কে কারো কাছ থেকে যেন কিছু বিরূপ সমালোচনা ও কথাবার্তা শুনে তার কাছে এসে তা বললেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম মিম্বরের উপর বসে উপস্থিত সাহাবিদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কে? তোমরা জান কী? সাহাবিগণ বললেন, আপনি আল্লাহ’র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম। আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক! তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বললেন, আমি হচ্ছি আবদুল্লাহ’র পুত্র আব্দুল মুত্তালিবের নাতি। আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করে আমাকে সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অত:পর সৃষ্টিকুলকে দু’টি দলে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম দলে রেখেছেন। অত:পর অনেক গোত্র সৃষ্টি করে আমাকে উত্তম গোত্রে সৃষ্টি করেছেন। পরিবারে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং স্বত্তাগতভাবে সম্মানীত করেছেন।” (তিরমীযি হাদিসটিকে হাসান বলেছেন)    

হযরত সালমান রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামকে বলতে শুনেছি, হযরত আদম আলাইহি-সসালাওয়াতু ওয়া-সাল্লাম সৃষ্টির চৌদ্দ হাজার বছর পূর্বে আমি এবং অলি আল্লাহ তা’আলার সম্মুখে একটি নূর রূপে ছিলাম। অত:পর আল্লাহ তা’আলা দু’টি ভাগে ভাগ করেন। এর একটি ভাগ হচ্ছি আমি এবং অপরটি হচ্ছেন অলিগণ। (মাসনাদে আহমদ মানাকিব)    


#সাহাবায়েকেরামএবংঈদমিলাদুন্নবী:- আল্লামা জালালুদ্দীন সূয়ুতী রমাতুল্লাহ তার কিতাবের মধ্যে উল্লেখ করেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। একদা তিনি নিজ ঘরে সমবেত সাহাবীগণকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের বিলাদাত/মিলাদ শরিফের ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছিলেন। এতে শ্রবণকারীগণ আনন্দ ও খুশি তথা ঈদ প্রকাশ করতেছিলেন এবং আল্লাহ পাকের প্রশংসা করতেছিলেন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের উপর দরুদ শরিফ পাঠ করতেছিলেন এমতাবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম সেখানে উপস্থিত হলেন এবং তাদের অবস্থা দেখে বললেন, তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব। উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ আছে, হযরত আবু দারদা রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামসহ আবু আমের আনসারী রাদি-আল্লাহু তাআলা আনহু-এর বাসায় উপস্থিত হয়ে দেখলেন, তিনি তার সন্তানাদি, আত্মীয়স্বজন, জাতি-গোষ্ঠী, পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের বিলাদাত শরীফের ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন, এইদিন (অর্থাৎ এইদিনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম আগমন করেছেন) এতদার্শনে ও শ্রবণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর রহমাতের দরজা তোমাদের জন্য খুলে দিয়েছেন ও সমস্ত ফিরিশতাগণ তোমার জন্য ক্ষমা চাচ্ছেন। আর বলেন, যে তোমার মতো এরূপ কাজ করবে, সেও নাজাত পাবে। সুবহানআল্লাহ। এ হাদিস দু’টি দ্বারা প্রামাণিত হলো, সাহাবায়ে কেরামদের যুগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লামের মিলাদ তথা জন্মদিন বা জন্মকাহিনী ও তৎসংশ্লিষ্ট আলোচনা হতো।   


#Conclusion:-হাদীস শরীফে রাসূল (সাঃ) ফরমান যে, “সর্ব প্রথম আল্লাহ্‌ তায়ালা আমার নূর কে সৃজন করেছেন। আমি আল্লাহ্‌র নূর হতে আর সমগ্র সৃষ্টিরাজী আমার নূর হতে।” [ সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা-৩]

হাদীসে কুদসিতে ইরসাদ হয়েছে, “আমি আপনাকে সৃষ্টি না করলে কোন কিছুই সৃষ্টি করতাম না।” [সিররুল আসরার, পৃষ্ঠা-৭০]

আরেক হাদীসে বর্ণিত আছে, “আদম যখন পানি ও কাদার মধ্যে ছিলেন আমি তখনো নবী ছিলাম।” অর্থাৎ আদমের যখন অস্তিত্ব ছিলনা তখনো হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) নবী ছিলেন।

সুতরাং এই ৩টি হাদীস থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার যে আল্লাহ্‌র এই সৃষ্টি জগত সৃষ্টির মূলে ছিলেন আমাদের দয়াল রাসূল (সাঃ) আর সেই জন্য তাকেই সর্বপ্রথম সৃষ্টি করা হয়েছিল। অথচ সব নবীর শেষ নবী হিসেবে এই ধুলির ধরায় তিনি আগমন করলেন হিজরীপূর্ব ৫৩ সালের ১২ই রবিউল আওয়াল রোজ সোমবার সুবেহ সাদিকের সময়। রাসূল কে তার আপন পরিচয়ে জগতে প্রেরনের পূর্বে আল্লাহ্‌ ১লক্ষ ২৪ হাজার নবী-রাসূল প্রেরন করেছিলেন মূলত পৃথিবীতে তার আগমনের ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য। সৃষ্টির শুরুতেই সমস্ত নবী-রাসূলদের কাছ থেকে তিনি অঙ্গিকার নিয়েছিলেন প্রত্যেকেই যেন তার সজাতির কাছে রাসুল (সাঃ) এর কথা তুলে ধরে। এ প্রসঙ্গে তিনি এরশাদ করেন, “স্মরণ কর!যখন আল্লাহ নবীগনের কাছ থেকে অঙ্গিকার নিয়েছিলেন যে, তোমাদের কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি এবং অতঃপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থক রুপে যখন একজন রাসূল (মহাম্মদ-সাঃ) আসবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান আনবে ও তাকে সাহায্য করবে। তিনি (আল্লাহ্‌) বললেন, তোমরা কি স্বীকার করলে? এবং এ সম্পর্কে আমার অঙ্গিকার কি তোমরা গ্রহন করলে? সকল নবী-রাসূল বললেন, আমরা স্বীকার করলাম। তিনি (আল্লাহ্‌) বললেন,তবে তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সাক্ষী রইলাম।” (আল ইমরানঃ ৮১)

সুতরাং যে মহামানবকে উদ্দেশ্য করে এই বিশ্ব জাহান সৃষ্টি সেই মহামানব যেদিন সশরীরে এই ধুলির ধরায় আগমন করেছিলেন সেই দিনটি যে স্বয়ং রাব্বুল আলামীনের কাছেও খুশির দিন ছিল একথা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। অথচ দয়াল রাসূলের আশেকরা যখন এই পবিত্র দিনটিতে খুশি হয়ে ঈদ সমমর্যাদায় দিনটি উদযাপন করতে যায় তখন সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ এই পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নাবী (সাঃ) কে বেদআত হিসেবে আখ্যায়িত করে। বেদআত সংক্রান্ত যত হাদীস আছে তা দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে এই ঈদ-এ-মিলাদুন্নাবী (সাঃ) পালন বেদআত। আমাদের দুর্ভাগ্য যে নিজ ধর্মের কিছু ব্যাক্তি বিশেষের অজ্ঞতার কারনেই মুসলিম জাতি হিসেবে আমরা কখনও ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনি। ইসলাম আজ নানা মত, নানা দলে বিভক্ত। আর এত সব দল-মত যা তৈরি হয়েছে সব-ই যার যার নিজের খেয়াল-খুশি মতো ব্যাখ্যা দেয়ার প্রবণতার কারনেই।

যারা ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী কে যারা বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে তাদের বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু হল, ক) কোরআন-হাদীসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) বলে কিছু নাই, খ) ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতর এর বাহিরে অন্য কোন দিনকে ঈদ হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবেনা, গ) রাসূল (সাঃ) এর জামানায় এই ঈদ-এ-মিলাদুন্নাবী (সাঃ) ছিলোনা, ঘ)এই দিনটি রাসূল (সাঃ) এর ওফাত দিবসও বটে।

এই মুসলিম জাতির আজ এতই দুর্দিন যে রাসূল (সাঃ) যে দিনটিতে পৃথিবীতে আগমন করেছেন সেই দিনে খুশী হবে নাকি হবেনা, আনন্দ প্রকাশ করবে নাকি করবেনা তা নিয়েও আজ বিতর্কে জড়ায়। এই পবিত্র দিনটির নামের সাথে “ঈদ” শব্দটা জুড়ে দেয়ার ক্ষেত্রও অনেকের কতই না আপত্তি। এটা আবার কোন ঈদ? ঈদুল আযহা আর ঈদুল ফিতর এর বাহিরে অন্য কোন দিনকে ঈদ হিসেবে মূল্যায়ন করতে তারা নারাজ। আসলে অল্প বিদ্যা সব সময়-ই ভয়ঙ্কর। তাহলে আলোচনায় আসা যাক যে রাসূল (সাঃ) এর জন্মের এই শুভ দিনকে ঈদ বলাটা আসলেই অযৌক্তিক কিনা এবং কোরআন-হাদিস এই পবিত্র দিনটি পালন করাকে সমর্থন করে কিনা।

আল ইজহার- অভিধানে বলা হয়েছে, “আনন্দপূর্ণ সকল সমাবেশে আরব জাতির কাছে ঈদ নামে আখ্যায়িত, কেননা এর প্রত্যাবর্তনে আনন্দের প্রত্যাবর্তন ঘটে।”

মিছবাহুর লুগাত নামক বিখ্যাত অভিধানে বলা হয়েছে, “ঈদ ঐ সকল দিন, যা কোন মার্যাদাশীল ব্যক্তি বা কোন ঐতিহ্যবাহী ঘটনার স্মরণে হয়।”

জামেউল বয়ান ফি তাফসীরুল কুরআন-গ্রন্থে বলা হয়েছে, “কোন নিয়ামত অবতীর্ণ হওয়ার বা কোন নিয়ামত প্রকাশের দিন কে ঈদ বলে।”

ইবনুল আরাবী (রাহঃ) বলেন, “ ঈদকে ঈদ নামে রাখার কারণ হল-প্রতি বছর নব আনন্দ নিয়ে তা ফিরে আসে। (কাওয়ায়েদুল ফিকহ-৩৯৬)

হযরত ইবনে আব্বাস (রাদ্বিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা “আল ইয়াওমা আকমালতু লাকুম দ্বীনাকুম” অর্থাৎ “ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম” এ আয়াত শরীফটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। তখন তাঁর নিকট এক ইহুদী ছিল। সে বলে উঠলো, “ যদি এই আয়াতটি আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো আমরা আয়াত নাযিলের দিনটিকে “ঈদ” বলে ঘোষণা করতাম।” এটা শুনে হযরত ইবনে আব্বাস (রাদ্বিঃ) বললেন, এ আয়াতটি সেই দিন নাযিল হয়েছে যে দিন এক সাথে দু’ঈদ ছিল। যথা- ১.জুমআর দিন এবং ২. আরাফার দিন।” (তিরমীযি শরীফ)। হাদিস শরীফে আরও ইরশাদ হয়েছে, “হযরত উবায়েদ বিন সাব্বাক (রাঃ)বর্ণনা করেন, হযরত রাসুল পাক (সাঃ) এক জুমআর দিনে বলেন, হে মুসলমান সম্প্রদায়! এটি এমন একটি দিন যাকে আল্লাহ পাক ঈদ স্বরূপ নির্ধারণ করেছেন।” (ইবনে মাযাহ, মুয়াত্তা মালিক, মিশকাত)

উক্ত হাদীস অনুযায়ী জুম’আ ও আরাফার দিবসকেও আরো দুই ঈদ বলা হয়েছে। ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর-এই দুই ঈদ যেভাবে হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত ঠিক সেভাবেই ঈদ হিসেবে জুমাবার ও আরাফার দিনও হাদীস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পাশাপাশি রাসূল (সাঃ) এর হাদীস অনুযায়ী বিষয়টা পরিস্কার যে ঈদুল আযহা আর ঈদুল ফিতর ছাড়াও আমাদের ধর্মে আরো ঈদ আছে এবং সেই হিসেবে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার বাহিরে আর কোন দিনকে ঈদ বলা যাবেনা-এই বক্তব্যের কোনই যৌক্তিকতা নেই।

কোরআনে আল্লাহ পাক ঘোষণা করেছেন, “আপনি বলুন! আল্লাহ্‌র এ অনুগ্রহ ও রহমত প্রাপ্তিতে আনন্দ প্রকাশ করা উচিৎ তা তদের সমস্ত ধনদৌলত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” [সূরা ইউনুসঃ ৫৮] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ৯ম শতাব্দীর ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রঃ) তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ‘আদ্দুররুল মনসূর’ এ উল্লেখ করেন, "হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, এখানে আল্লাহ এর “অনুগ্রহ” দ্বারা ইলমে দ্বীন এবং “রহমত” দ্বারা নবী কারীম (সাঃ) এর কথা বুঝানো হয়েছে। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা আলুসি (রহঃ) তাঁর স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেন, "হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নিশ্চয়ই ‘অনুগ্রহ’ হল ইলমে দ্বীন এবং ‘রহমত’ হল নবী কারীম (সাঃ)"। [তাফসীর রুহুল মা’আনী ১১তম খন্ড, পৃঃ ১৮৩] তাছাড়া দয়াল রাসূল (সাঃ) যে জগতের জন্য সবচেয়ে বড় রহমত এই সম্পর্কে পবিত্র কোরআনেও আল্লাহ্‌ ঘোষণা করেছেন, “হে রাসূল! আমি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টি জগতের রহমত হিসেবে প্রেরন করেছি।“ [সুরা আম্বিয়াঃ ১০৭] সুতরাং, জগতের সবচেয়ে বড় রহমত হিসেবে আমাদের দয়াল রাসূল (সাঃ) এর এই দুনিয়ায় আগমনের দিনে যদি আনন্দ প্রকাশ না করি তাহলে আর কবে আনন্দ করবো? এরপরেও কি এ কথা বলার কোন সুযোগ আছে যে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) পালনের কথা কোরআনে নেই?

কট্টরপন্থী আলেমরা সবসময় এই যুক্তি দেয়ার চেষ্টা করে যে “ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ)” এর কথা কোরআন হাদীসে কোথাও নেই। কোরআন-হাদীস এক বিশাল জ্ঞান ভাণ্ডার। যুগে যুগে অসংখ্য আলেম এই কোরআন নিয়ে গবেষণা করেছেন, অসংখ্য তফসীর লেখা হয়েছে। এইসব তফসীর থেকে এমন সব তথ্য বেড়িয়ে এসেছে যা শুধু লাইন বাই লাইন পড়ে গেলে কখনও সেই অর্থ বোঝা সম্ভব না। ইসলামের অনেক কিছুকেই ইদানিং বেদআত আর হারামের খাতায় ফেলে দেয়ার ক্ষেত্রে “কোরআন-হাদীসে নেই” এই বুলি আওড়ানো হচ্ছে। কোরআন-হাদীসে কিছু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ভাবে নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে এটা করা যাবে আর এটা করা যাবেনা। কিছু বিষয় আছে যার সম্পর্কে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজনিয়তা আছে যা কোরানের বিভিন্ন তফসীর গ্রন্থ পড়ে আমরা জানতে পারি।শুধু লাইন বাই লাইন পড়ে গেলে তার প্রকৃত অর্থ বোঝা অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন। আর যে সব বিষয়ে কোন উল্লেখ নেই সে ক্ষেত্রে দেখতে হবে যে কোরআন-হাদীস এর কোন আয়াত কি উক্ত বিষয়ের সাথে সাঙ্ঘরশিক কিনা। যদি সাঙ্ঘরশিক না হয় তাহলে তা বেদাত-হারাম ঘোষণা দেয়ার আগে ১০ বার চিন্তা করা উচিৎ। কারণ “কোরআন-হাদীসে নেই”- এই কথার মাধ্যমে এটাই বোঝায় যে কোরআন-হাদীসে বিষয়টি নিষেধ করা হয়েছে। আর আমদের সমাজের কতিপয় আলেম কৌশলে “ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ)” সম্পর্কে এই মিথ্যাচারটিই করে আসছে। কারণ যে যুক্তিতে ওই অন্ধ আলেম সমাজ “ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ)” কে বেদআত এর খাতায় ফেলে দিয়েছে সেই যুক্তিটিকে ভুল প্রমাণ করেই ইসলামের অনেক-কিছুই সেই খোলাফায়ে রাশেদার যুগ থেকে ইসলামে সুপ্রতিষ্ঠিত। যেমন, রমজান মাসে জামাতের সাথে ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ এর নিয়ম ওমর (রাঃ) এর সময় থেকে চালু হয় যা রাসুল (রাঃ) এর জামানায় ছিলোনা। পবিত্র কোরআনকে বই আকারে সংকলিত করা ও একে ৩০ পাড়ায় বিভক্ত করা হয়েছে খোলাফায়ে রাশিদার যুগে। শুক্রবার জুম’আর নামাজের সময় সানী আজান (খুতবার আগে) এর প্রচলন করা হয়েছিল হযরত ওসমান(রাঃ) এর জামানায় যা রাসূল (সাঃ) এর জামানায় ছিলোনা। হাদীস সঙ্কলন শুরু করা হয়েছিল রাসূল (সাঃ) এর ওফাতের প্রায় ১০০ বছর পর। এবার বর্তমান যুগের কথায় আসা যাক। আজান দেয়া হয় মাইক ব্যবহার করে যা রাসূল (সাঃ) এর জামানায় ছিলোনা। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ইসলামিক স্কলাররা ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন যা শুনে আমরা ইসলামের অনেক গুরুত্তপূর্ণ বিষয়ে জানতে পারি। অর্থাৎ এটাকে ইসলাম প্রচারের একটা ডিজিটাল ফরম্যাট বলা যেতে পারে। রাসূল (সাঃ) এর জামানায় তাকে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্ম প্রচার করতে হয়েছে। এখন আমরা যদি বেদআত এর দলিল কে এভাবে অপব্যবহার করি তাহলেতো এই সবকিছুই বেদআত। অনেকে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর বিরোধিতা করে প্রায়ই এই হাদীস কে দলিল হিসেবে দাড় করায়। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে আমাদের এ ধর্মে এমন কোন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করবে যা ধর্মে অন্তর্ভুক্ত ছিল না তা প্রত্যাখ্যাত হবে”।-[বুখারী ও মুসলিম]। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেছেন, “আমাদের এ ধর্মে যে নতুন কোন বিষয় প্রচলন করবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।”-[বুখারী ও মুসলিম] উপরের যে বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার একটাও রাসূল (সাঃ) এর জীবদ্দশায় ইসলামে অন্তর্ভুক্ত না হওয়া সত্তেও তা বেদআত হিসেবে গৃহীত হচ্ছেনা। সুতরাং খুব পরিষ্কার ভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে হাদীসে “নতুন বিষয়” বলতে সেই বিষয়কে বোঝান হয়েছে যা সম্পূর্ণ রুপে কোরআন-হাদীস বিরোধী। উধাহরন স্বরূপ বাদশাহ আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহীর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।দ্বীনে ইলাহী এই ধর্মের নাম ইসলামের অনুরুপ বা মুসলিম ভাবধারার সাথে সামঞ্জস্য থাকলেও দ্বীনে ইলাহী ছিল মূলত ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পারশিকদের সমন্বয়ে একটি সংকর ধর্ম। দ্বীনে ইলাহী ধর্মের অনুসারীরা বলত লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আকবারু খলিফাতুল্লাহ।ঈদ-এ-মিলাদুন্নবীর ইঙ্গিত কোরআন-হাদীসে সুস্পষ্ট।একে বেদআত হিসেবে চালানোর কোন কারন-ই নাই।সুতরাং রাসুল (সাঃ) যে দিনটিতে এই পৃথিবীর বুকে আগমন করেছিলেন সেই দিনটিতে যদি তার আশেকরা খুশী হয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের আনন্দে সামিল হয় সেক্ষেত্রে যারা ইসলাম রক্ষার আজুহাতে অযথা বিতর্কে জড়াচ্ছে তাদের মধ্যে রাসুল (সাঃ) এর প্রেম কতটুকু? কোরআন-হাদীস এর কোন কথা কোন প্রেক্ষাপটে প্রয়োগ করতে হবে এই বিচার-বুদ্ধিটুকু যদি না থাকে তাহলে শুধু মীলাদুন্নবী কেন আরও অনেক বিষয়েই বিতর্ক অনিবার্য। আর যারা বলে যে এই দিন রাসুল (সাঃ) এর ওফাত দিবস-ও বটে তাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে এই তথ্যটি ঐতিহাসিক ভুল। রাসূল (সাঃ) এর ওফাত দিবস ১লা রবিউল আওয়াল। 


ঈদে মিলাদুন্নবী শরীয়তের দুই ঈদের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কেননা ঐ দুই ঈদের পৃথক পৃথক দুটি নাম রয়েছে। শরীয়তের এই দু’টি ঈদ পালনের সাথে ইবাদত শর্ত। সুনির্দিস্ট ইবাদতের মাধ্যমে এই ঈদ দুইটি পালন করা হয়ে থাকে। যেমন, ঈদুল ফিতর আনন্দ উৎসবের কারণ হোল আল্লাহর বান্দা দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা তথা রোযা পালন করার পর ঈদুল ফিতরের দিন তার পুরস্কার লাভ করে । রমজান মাসের রোযাদারকে আল্লাহ পাক ঈদুল ফিতরের দিন নিষ্পাপ ঘোষণা করেন। এই নিষ্পাপ ঘোষণাটাই বান্দার জন্য খুশীর দিন, ঈদের দিন। আর ঈদুল আযহার দিন বান্দা পশু কুরবানীর মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে থাকে। আর আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভ করা একটা খুশীর বিষয়, আনন্দের বিষয়। তাই একে ঈদুল আযহা বলা হয়। আমরা এই ২টি ঈদ পালন করি এবাদতের অংশ হিসেবে। কিন্তু ঈদ- এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর সাথে কোন এবাদত শর্ত হিসেবে জুড়ে দেয়া হয়নি। বরং রাসূল (সাঃ) এর দুনিয়াতে আগমনের এই দিনটিতে যদি আমরা খুশী থাকি, পরিবারের সবাইকে নিয়ে সেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেই তাহলে কি আল্লাহ ও তার রাসূলের বেজাড় হবার কি কোন কারণ আছে? অনেকে আবার মধ্য পন্থা অবলম্বন করে। তারা সরাসরি ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর বিরোধিতা করেনা কিন্তু কৌশলে এটা বলে যে কোরআন-সুণ্ণাহ সঠিক ভাবে মেনে চলাই রাসূল (সাঃ) এর প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। আমিও সে কথার সাথে ১০০% একমত। কিন্তু এটাতো ৩৬৫ দিনের জন্যই প্রযোজ্য। এটা তো শুধু ঐ ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) এর ১ দিনের জন্য প্রযোজ্য না। আর অনুষ্ঠানটার নাম ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ), সুতরাং কোরআন–সুণ্ণাহ মানার পাশাপাশি আর ২টা ঈদের মত পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইদের দিনের মতই আনন্দ উদযাপন করলেই না ঈদ পালন করা হবে।একজন মুসলিম যে নামাজ-রোজা সহ শরীয়তের সব কিছুই ঠিক মত পালন করে। সে যদি রাসূল (সাঃ) এর পৃথিবীতে আগমনের এই শুভদিনে মন থেকে খুসি হয়, আর ২টি ঈদের দিনের মতই বাড়ীতে ভাল কিছু রান্না করে, পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের নতুন জামাকাপড় কিনে দেয়, ঈদ এর শুভেচ্ছা আদান-প্রদান করে, পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় তাহলে বেদআত হিসেবে তার সমস্ত এবাদত পণ্ড হয়ে যাবে এই ধরনের অযৌক্তিক ফতোয়াবাজী অচিরেই বন্ধ হওয়া উচিৎ। সমাজের কিতাব সর্বস্ব কিছু মানুষ আছে যারা আল্লাহ-রাসুলের প্রেমের কথা বল্লেও প্রেম কি জিনিস সেই ব্যাপারে কোন ধারনাই নেই, তারাই মূলত এই অপ-প্রচার চালাচ্ছে। এই দলের কাছে নামাজ- রোজা যতটা না গুরুত্ব পায় রাসুলের প্রেম ততটা পায়না। কিন্তু যার ভিতর রাসূলের প্রেম যতটুকু তার ঈমান ততটুকু। সুতরাং এই ঈমানের ভিত্তি মজবুত না করে কোরআন- সুন্নাহর বুলি আওরালে আর কি লাভ? আবু লাহাবের মতো একজন কাফের নিজের অজান্তেই রাসূল (সাঃ) এর প্রতি ভালবাসা দেখিয়েছিল বলে আল্লাহ্‌ তাকে তততুকুই প্রতিদান দিয়েছিলেন। আল্লামা ইবনে হাজার আস্কালানি (রহঃ) তার ফাতহুল বারীর ৯ম খণ্ডে বর্ণনা করেছেন হযরত সুহাইলি (রাঃ) কর্তৃক হযরত হযরত আব্বাস (রাঃ) থেকে এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “তিনি বলেন, আবু লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর তাকে স্বপ্ন দেখি যে সে অত্যন্ত আযাবের মধ্যে আছে।” তার নিজের অবস্থা সম্পর্কে আবু লাহাব জানায় “তোমাদের ছেড়ে আসার পর থেকে আমি শান্তির মুখ দেখিনি। তবে প্রতি সোমবার আমার আযাব লাঘব করা হয়।” হযরত আব্বাস (রাঃ) বলেন, “তার এই আযাব লাঘবের কারণ হল হযরত রাসূল (সাঃ) এর জন্মদিন ছিল সোমবার। রাসূল (সাঃ) এর জন্মের শুভ সংবাদ নিয়ে আসায় সে তার দাসী সুয়াইবাকে খুশি হয়ে মুক্তি দিয়েছিল।” যে আবু লাহাব সারাজিবন আমাদের দয়াল রাসুল (সাঃ) এর বিরধিতা করে গেলো এবং যে ছিল একজন কাফের শুধুমাত্র রাসূল (সাঃ) এর জন্মের সংবাদে খুশি হওয়ার কারনে আল্লাহ্‌ প্রতি সোমবার তার আযাব লাঘব করেন। আমরাও যদি রাসুল (সাঃ) এর জন্মের এই শুভ দিনটিতে খুশি হতে পারি এবং অন্য ২টি ঈদ এর মতই পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রকৃত ঈদ এর আনন্দ উদযাপন করতে পারি তাহলে নিঃসন্দেহে তা পরকালে আমাদের মুক্তির ওসিলা হিসেবে কাজ করবে।